পড়ার টেবিলেই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০:২২

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

গোপালগঞ্জে ঘরে ঢুকে পড়ার টেবিলে পড়া অবস্থায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা কাজল মোল্লা (২৮) নামে এক তরুণকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

বুধবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটেছে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড় ইউনিয়নের সাতপাড় গ্রামে। ওই ছাত্রী সাতপাড় দীননাথ গয়ালী চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। 

বৃহস্পতিবার থেকে তার স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ধর্ষণের শিকার হওয়ায় ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

এ ঘটনায় সাতপাড় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, সাতপাড় গ্রামের পিনাকি রঞ্জন বিশ্বাস পিন্টুর ছেলে প্রণব কান্তি বিশ্বাস বাপ্পী (৩৩) ও কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া গ্রামের ওমর আলী মোল্লার ছেলে কাজল মোল্লাকে আসামি করে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার বিচার ও ধর্ষককে গ্রেফতারের দাবিতে ওই ছাত্রীর সহপাঠী ও সাতপাড় দীননাথ গয়ালী চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।

ওই ছাত্রীর মা ও মামলার বাদী বলেন, আমার মেয়ের বার্ষিক পরীক্ষা আজ থেকে শুরু হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সে ঘরের পড়ার টেবিলে বসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এসময় বাপ্পী দরজায় কড়া নেড়ে দরজা খুলতে বলে। দরজা খুলে দিতেই বাপ্পী ও কাজল দ্রুত মেয়ের ঘরে ঢুকে। কাজলের সহায়তায় মেয়ের মুখ চেপে ধরে রেখে বাপ্পী ধর্ষণ করে। আমার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। তারা হাতেনাতে কাজলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। তখন বাপ্পী পালিয়ে যায়।

ওই ছাত্রীর মা বলেন, আমার মেয়ে এ ঘটনার পর থেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। তার সহপাঠীরা যখন বার্ষিক পরীক্ষা দিচ্ছে তখন তার মেডিকেল করা হচ্ছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

সাতপাড় দীননাথ গয়ালী চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুলাল চন্দ্র মজুমদার বলেন, সকালের পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীরা ঘটনার বিচারের দাবিতে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কে মানববন্ধন করেছে। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) শওগাতুল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত কাজলকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামি বাপ্পীকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। ওই ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী শফিকুল আলম বলেন, ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য এরই মধ্যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তারা দ্রুত এ সংক্রান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করে রিপোর্ট দাখিল করবে।