ভালুকায় হবিরবাড়ী আমতলী সাবিহা সুলতানা দাখিল মাদ্রাসা

বিনা বেতনে শিক্ষকতার ১৪ বছর!

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ১৫:০০ | আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ১৫:৩৬

সফিউল্লাহ আনসারী
ADVERTISEMENT

ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের আমতলী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে প্রতিষ্ঠিত হবিরবাড়ী আমতলী সাবিহা সুলতানা দাখিল মাদ্রাসা।

প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর এখানে ক্রমেই বাড়ছে শিক্ষার হার। সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ধরনা না দিয়ে নিরক্ষরদের মাঝে শিক্ষার আলো জ্বালাতে ওই সময়ের গৌরীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এই স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত স্ত্রীর নামে নিজের ও স্থানীয়দের উদ্যোগে ২০০৩ সালে স্থানীয়দের দেওয়া জায়গায় গড়ে তোলেন হবিরবাড়ী আমতলী সাবিহা সুলতানা দাখিল মাদ্রাসাটি। নিয়মিত পাঠদান, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ সরকারি সকল নিয়ম পালন করে মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মতোই সচল। অথচ আজো শিক্ষার আলো ছড়ানো এই প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়নি। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কোনো বেতন পান না। কেউ কেউ প্রায় ১৪ বছর বিনা বেতনে চাকরি করছেন। এতে করে শিক্ষকরা আর্থিক কষ্ট ও দৈন্যতায় দিনাতিপাত করছেন।


বেতন-ভাতা না থাকায় অনেক শিক্ষক জীবিকার তাগিদে অন্যত্র চলে যাওয়ায় রয়েছে শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ ভবন, চেয়ার-টেবিলের অভাব, বেঞ্চ, আসবাবপত্র, খেলার মাঠসহ নানা সংকটে ব্যাহত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান। 

প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক জলিলুর রহমান জানান, হবিরবাড়ী আমতলী সাবিহা সুলতানা দাখিল মাদ্রাসাটি বর্তমান যুগ্ম সচিব শেখ আলমগীর হোসেন ২০০৩ সালে তার স্ত্রীর নামে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা, জেডিসি পরীক্ষা ও দাখিল পরীক্ষায় প্রতিবছর আশানুরূপ ফল করে।

মাদ্রাসার সুপার মাওলানা তাজুল ইসলাম বলেন, বিনা বেতনে শিক্ষকদের ধরে রাখা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকার আমাদের নন-এমপিও শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওর ব্যবস্থা করলে উপকৃত হব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, এমপিও না থাকায় সামাজিক অবজ্ঞার শিকার হতে হচ্ছে আমাদেরকে। অবমূল্যায়িত হতে হতে আর সহ্য হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটি বাঁচিয়ে রাখতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করে, শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির জোর দাবি জানান।