সন্ত্রাসী হামলায় কনে পক্ষের ১৫ জন আহত

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ১৩:৩৮

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় সালিশ-বিচারের জন্য কনে পক্ষের লোকজনকে ডেকে এনে বরপক্ষের লোকজন সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। এ সময় ইউপির এক নারী সদস্য এবং সাবেক এক ইউপি সদস্য লাঞ্চিত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, সাতমোড়া গ্রামের নুরুজ্জামান বেগম (২৫), লিয়াকত আলী (২৬), ইব্রাহীম(২০), খোকন মিয়া, স্বপন মিয়া, আ. মতিন, সুমন, রুবেল ও গৃহবধূ জেসমিন আক্তার প্রমুখ। আহদের মধ্যে চারজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে লিয়াকত আলীকে আশংকাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

লাঞ্চিত ইউপি সদস্যরা হলেন, জাহাপুর ইউনিয়নের মহিলা ইউপি সদস্য মমতাজ বেগম ও সাবেক সদস্য আবুল হাসেম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের সাতমোড়া গ্রামের ছন্দু মিয়ার মেয়ে জেসমিন আক্তার (২৫) সদর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে পারভেজের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকে পারভেজ প্রায়ই তার স্ত্রীকে মারধর করে আসছেন। গত ২০ নভেম্বর তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে পারভেজ তার স্ত্রী জেসমিনকে বেদম মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে মৌখিকভাবে তালাক দিয়ে কোনো প্রকার খাবার ও পানি দেয়া ছাড়াই আলাদা একটি ঘরে আটকে রাখা হয়।  খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে সীমাংসার জন্য ছন্দু মিয়া তার গ্রামের নারী ইউপি সদস্য মমতাজ বেগম ও সাবেক মেম্বার আবুল হাশেমসহ ১০/১২ জনকে নিয়ে সোনাপুর গ্রামে যান। এবং সেখানকার ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিনের উপস্থিতিতে তার বাড়িতে সালিশ বসে। এক পর্যায়ে হানিফ মিয়া ও তার ছেলে পারভেজের নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে এ ঘটনা ঘটায়।

শনিবার রাতেই জাহাপুর ইউপি চেয়ারম্যান একেএম সফিকুল ইসলাম আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান।

বরের বাবা হানিফ মিয়া বলেন, ‘উভয় পক্ষের লোকজনই মারামারিতে জড়িয়েছে। আমার দুই ছেলেসহ চারজন আহত হয়েছেন।’

কনের বাবা ছন্দু মিয়া বলেন, ‘এটি পরিকল্পিত হামলা। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

মুরাদনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’