হালুয়াঘাটে আমনের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ১২:১৫ | আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ১৩:৪৩

মাজহারুল ইসলাম মিশু
ADVERTISEMENT

অনুকূল আবহাওয়া আর স্থানীয় কৃষি বিভাগের তদারকির কারণে এবার হালুয়াঘাটে রোপা-আমনে বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি ধানের বাজারমূল্য সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে আনন্দের ছাপ। ধানের এ ন্যায্যমূল্য ঠিক থাকলে দেশ আরো এগিয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, এ বছর রোপা-আমন মৌসুমে হালুয়াঘাটে মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৪,৫০০ হেক্টর জমি। যার বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর আমন মৌসুমে হালুয়াঘাটে হাইব্রিড জাতের ধানী গোল্ড, ব্রি ধান-৪৯ এবং কিছু জমিতে পাইজাম এবং স্থানীয় জাতের চিনিশাইল, তুলসীমালা প্রভৃতির ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে মোটা জাতীয় ধান প্রতি একরে ৪০-৫০ মণ এবং চিকন জাতের ধান প্রতি একরে ৩০-৩৫ মণ হারে ফলন হয়েছে। বছরের শুরু থেকেই অনুকূল আবহাওয়া বিশেষ করে, নিয়মিত বৃষ্টিপাত, নন ইউরিয়া তথা পটাশ সারের ব্যবহার, আগাম ছত্রাকনাশক প্রয়োগ আর স্থানীয় কৃষি বিভাগের আগাম সুষ্ঠু তদারকির ফলে এ বছর রোপা-আমন আবাদে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়েনি। ফলে ফলনও হয়েছে বাম্পার।

এদিকে মোটা ধানের বাজারমূল্য শুরু থেকেই সন্তোষজনক। উপরন্তু সময় গড়িয়ে গত কয়েক দিনে ধানের বাজার মূল্য ঊর্ধ্বগতির দিকে। বর্তমানে প্রতিমণ মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত। একদিকে বাম্পার ফলন আর অন্যদিকে ন্যায্যমূল্য পেয়ে এবার বেশ খুশি হালুয়াঘাটের কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এভাবে সরকার যদি ধানের বাজারমূল্য ধরে রাখে তবে কৃষক যেমনি লাভবান হবে তেমনি স্বনির্ভর হবে তারাও। কৃষিতে স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে দেশ। হালুয়াঘাট উপজেলার মকিমপুর নগুয়া গ্রামের কৃষক মনোয়ার হোসেন জানান, তিনি ব্রি ধান-৪৯ আবাদ করেছেন। প্রতি একর জমিতে তার ফলন হয়েছে ব্রি ধান-৪৯ প্রায় ৪০ মণ হারে। অপর কৃষক নাজমুল মিয়া জানান, তিনি ব্রি ধান-৪৯ আবাদ করে একরে প্রায় ৫০ মণ হারে ফলন পেয়েছেন। তারা আরো জানান, বর্তমানে মোটা ধানের বাজার দর প্রতিমণ ৮৫০-৭০ টাকা দরে। ফলে ধান বিক্রি না করে আরো লাভের আশায় শুকিয়ে গোলায় তোলে রেখেছেন। স্থানীয় কৃষকরা জানান, যদি সরকার ধানের বাজারমূল্য এভাবে ঠিক রাখে তাহলে আমরা কৃষকরা লাভবান হব, দেশ আরো উন্নত হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আহম্মদ বলেন, এ বছর আমন ধান রোপণে অনুকূল আবহাওয়া আর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের আগাম তদারকির কারণে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পোকা-মাকড়ের আক্রমণও ছিল না বিধায় বাম্পার ফলন হয়েছে।