ডাকাত আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ১৯:৪৯ | আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৬, ১৯:৫৫

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলায় চোর ও ডাকাত আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা বসিয়েছেন গ্রামবাসী।

২২ নভেম্বর পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলার হারতা বাজারের মৎস্য আড়তে ফিল্মি স্টাইলে ডাকাতি সংঘঠিত হওয়ার পর চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে এই দুই উপজেলার অন্যান্য বাজার ও বন্দরগুলোতে। গত কয়েক মাসের ব্যবধানে গৌরনদী, আগৈলঝাড়া উপজেলায় একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র মতে, ডাকাতিকালে একাধিক বাড়িতে দলবদ্ধধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও সামাজিক অবস্থানের কারণে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মুখ খুলছেন না। এসব ডাকাতির ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও ডাকাত আতঙ্ক কাটছে না। ফলে উপায়ান্তুর না পেয়ে গ্রামবাসী নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই দেওয়ার জন্য গত এক মাস ধরে রাত জেগে পাহারা বসিয়েছেন। এমনকি এলাকার চিহ্নিত চোর কিংবা ডাকাতদের আটক করে থানা পুলিশের কাছেও সোর্পদ করছেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১ নভেম্বর আগৈলঝাড়ার ছয়গ্রাম এলাকার সেলিম হাওলাদারের গৃহে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এর পূর্বে ২৪ অক্টোবর একই গ্রামের আতাউর রহমান হাওলাদারের গৃহে, ৩০ অক্টোবর সেরাল গ্রামের জাকির হোসেনের গৃহে, ৭ অক্টোবর সেরাল গ্রামের আব্দুল হক সন্যামতের গৃহে, একমাস পূর্বে গৌরনদী উপজেলার উত্তর বিল্বগ্রাম এলাকার পলাশ খানের গৃহে, দক্ষিণ বিল্বগ্রামের কাদের তালুকদারের গৃহে ও গৌরনদী হাইওয়ে থানা সংলগ্ন স্থানের মা ও মনি জুয়েলার্সে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘঠিত হয়। এ ছাড়াও গৌরনদী মিউচুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংক থেকে বাসষ্ট্যান্ড যাওয়ার পথে প্রকাশ্যে দিনে-দুপুরে বিকাশের বিক্রয় প্রতিনিধির কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। 

শুক্রবার রাতে গৌরনদী উপজেলার প্রত্যন্ত জঙ্গলপট্টি এলাকায় দেখা যায়, চোর ও ডাকাত আতঙ্কে গত এক মাস ধরে ওই এলাকার ইউপি সদস্য শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে লাঠিসোটা নিয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী। একত্রিতভাবে গ্রামের ২০/২৫ জন তরুণ দলবদ্ধভাবে গ্রামঘুরে পাহারা দিচ্ছেন। এ ছাড়াও মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ওই ইউনিয়নের সবকটি গ্রামে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আত্মগোপনে থাকা ওই ইউনিয়নের চিহ্নিত ডাকাত শরিফুল ইসলাম ওরফে শহিদুল মৃধা, আক্তার খন্দকার ও বার্থী ইউনিয়নের নন্দনপট্টি গ্রামের নান্নু মৃধাকে গ্রামবাসী আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন। 

উজিরপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটক আক্তার খন্দকার হারতায় ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক উজিরপুর উপজেলার যুগিরকান্দা গ্রামের সুমন নামের আরও একজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

অপরদিকে আগরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই শাহজাহানের বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে মোস্তাফিজুর রহমান পিয়াল নামের এক আটককৃত চিহ্নিত চোরকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে শনিবার সকালে বিক্ষোভ করেছে ওই এলাকার শত শত গ্রামবাসী।

সচেতন নাগরিকদের মতে, গ্রেপ্তারের পর কয়েকদিন কারাভোগ করে চোর ও ডাকাত দলের সদস্যরা জামিনে বেড়িয়ে পুনরায় তাদের পেশায় এবং মাদক সেবিরা নেশার টাকা জোগার করতেই চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। 

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার এস.এম আক্তারুজ্জামান বলেন, এলাকাবাসীর জানমালের নিরাপত্তা দেওয়াসহ চুরি ও ডাকাতি রোধে প্রতিটি থানার ওসিদের কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।