প্রতারণার নতুন ফাঁদ

জঙ্গি তালিকার ভয় দেখিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতারণা

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৬, ১৯:১১

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

বাগেরহাটে আইন-শৃংখলা বাহিনীর পরিচয়ে উড়োফোনে কথিত জঙ্গি তালিকায় নাম ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকদের সাথে প্রতারণার করছে একটি চক্র।

এমন উড়ো ফোনে জেলার মাদ্রাসা শিক্ষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতংক।  ফোন পেয়ে শিক্ষকদের কেউ কেউ ছুটে গেছেন জেলা ডিবি পুলিশের কার্যালয়, আবার কেউ কেউ গেছেন স্থানীয় থানা পুলিশের কাছে।

প্রতারক চক্রটি পুলিশের গোয়ন্দা বিভাগের পরিচয় দিয়ে মাদ্রাসা সুপার ও শিক্ষকদের বিভিন্ন নম্বর থেকে দফায় দফায় ফোন করে ভয় দেখিয়ে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে।

জেলার ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও মংলা উপজেলার মাদ্রাসা শিক্ষকদের কাছে এমন উড়ো ফোন আসছে বলে বিভিন্ন মাদ্রাসা প্রধান ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ জানায়, বাগেরহাটের মংলা পৌর শহরতলীর আরাজী মাকোডোন দাখিল মাদ্রাসা সুপার মো. মনিরুজ্জামানকে সোমবার বিকাল ৩টায় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এসআই আলতাফ পরিচয় দিয়ে ০১৮৫৯১৬৬৪৩০ এ নাম্বার থেকে ফোন করা হয়।

এ সময় ওই মাদ্রাসা সুপারকে বলা হয়, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার জঙ্গি তালিকায় আপনার নাম রয়েছে, ইচ্ছে করলে আপনি এ তালিকা থেকে নিজের নাম কাটাতে পারেন।  কিছুক্ষণ পর আমার স্যার আপনাকে ফোন করবে তাকে খুশি করাতে পারলে আপনার নাম কাটানো সম্ভব হবে।

এরপর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করে জনৈক মিজানুর রহমান সন্ধ্যা ৭টা ২৫মিনিটে ০১৬১১১০৯৭৪২ নাম্বার থেকে মাদ্রাসা সুপার মো. মনিরুজ্জামানকে ফোন করেন।

ওই সময় গোয়ন্দা পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলেন, বিকালে আমার অফিস থেকে আপনাকে ফোন করা হয়েছিল এবং আপনি নিশ্চয়ই সবকিছু শুনে নিয়েছেন!

এখন জঙ্গি তালিকার লিস্ট আমার টেবিলে' এ তালিকা ধরেই ক্রসফায়ার দেয়া হবে। আর আপনি যদি এ তালিকা থেকে নাম কাটাতে চান তা হলে কিছু ‘খরচা’ আছে। আর এ জন্য আপনাকে জেলা সদরে এসে আমার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে হবে। এ কথা বলেই ফোন কেটে দেয়া হয়।
 
একইভাবে মংলার কোরবান আলী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. গোলাম মোস্তফা, চাঁদপাই পীর মোছের শাহ্ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. হুমায়ূন কবির, দক্ষিণ চিলা মাদ্রাসা সুপার মাওলানা নওশের আলী, কচুবুনিয়ার দারুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা কবির হোসেনসহ আরো অনেক মাদ্রাসা শিক্ষককে একই নম্বর থেকে ফোন করেন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী ওই দুই প্রতারক। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসা শিক্ষকরা থানায় সাধারন ডায়েরি করেন।

বাগেরহাট পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় বলেন, এই প্রতারক চক্রের কললিস্ট সংগ্রহসহ গোয়েন্দা পুলিশ তাদের গতিবিধির ওপর নজরদারি করছে। এছাড়া প্রতারক চক্রের কাছ থেকে ফোন পেলে সংশ্লিষ্ট থানা অথবা সরাসরি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করার জন্য মাদ্রাসা শিক্ষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।