রংপুরে বস্তাপ্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে মোটা চালের দাম

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৬, ১৯:০১ | আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৬, ১৯:০৮

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

রংপুরে এক মাসের ব্যবধানে চালের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ২৫০-৩০০ টাকা। বড় বড় ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা ধান চাল মজুত রেখে বন্যার অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

শুক্রবার রংপুরের পুরনো শহর মাহিগঞ্জ ও সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার 'সিটি বাজারে' মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে বস্তাপ্রতি (৮৪ কেজি) এক হাজার ৬০০ টাকা থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা। এক মাস আগে একই ধরনের চাল বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৩০০ টাকা থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। আর চিকন চাল প্রতিবস্তার দাম ছিল এক হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা। সে একই রকমের চাল এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি বস্তা ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত।

মাহিগঞ্জের কয়েকজন চাল ব্যবসায়ী জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে গত এক মাস থেকে চলছে বন্যা। বন্যাদুর্গত এলাকায় চালের চাহিদা বেড়ে গেছে। আর হাটবাজারে ধানের সরবরাহ কম; যদিও বা পাওয়া যায় তাতে দাম অনেক বেশি। এ কারণে চালের দাম বেশি।

তবে এ অবস্থা কয়েক দিনের মধ্যেই কেটে যাবে বলেও ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে রংপুর চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কাশেম বলেন, বড় বড় ব্যবসায়ী ও গৃহস্থরা না ছাড়ায় বাজারে ধানের সরবরাহ কমে গেছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা দেখা দেওয়ায় সেখানে চালের সরবরাহ বেড়ে গেছে। আর এ কারণে চালের দামও কিছুটা বেড়েছে।

পীরগাছার পারুল এলাকার বড় গৃহস্থ হাফিজ উদ্দিন ও কল্যাণী এলাকার সরোয়ার হোসেন জানান, এখন মোটা ধান মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা থেকে সাড়ে ৬০০ টাকায়। চিকন ধান সাড়ে ৭০০ টাকার ওপরে।

স্থানীয় এক ধান ব্যবসায়ী জানান, এক মাসের ব্যবধানে ধানের দাম মণপ্রতি বেড়েছে ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা। বড় বড় গৃহস্থ ও ধান গুদামজাত করা ব্যবসায়ীরা আরো দাম বাড়ার আশায় এখনই তা বাজারে ছাড়ছেন না। এ কারণে বাজারে ধান সরবরাহ কমে গেছে। এছাড়া বন্যাদুর্গত এলাকায় চালের চাহিদা অনেক বেড়েছে। এর ফলেই বেড়েছে দাম।

একজন ক্রেতা জানালেন, যে চাল ২৭-২৮ টাকা কেজি কিনেছি সে চাল এখন ৩৬-৩৮ টাকা কিনতে হচ্ছে। এটা আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য কষ্টকর।