আইএসের নির্মম নির্যাতনের শিকার, হাড্ডিসার শিশু (ভিডিও)

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৪:৫০

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

ইরাকের মসুল শহরে প্রতিনিয়ত আইএসের কঠিন নির্যাতনের মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। কেউ হারাচ্ছেন বাবা মা আবার কেউ হারাচ্ছেন এক মাত্র আদরের সন্তান। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এ নির্যাতন কিছুটা সহ্য করতে পারলেও শিশুরা তা পারছে না। দীর্ঘদিন না খেয়ে হাড্ডিসার হয়ে মারা যাচ্ছে তারা।

সম্প্রতি বিবিসি রেডিও ফাইভে দুই হাড্ডিসার শিশুর ঘটনা উঠে এসেছে। শিশু দুটি ইরাকের মসুল শহরে আইএসের হামলার শিকার। তার বাবা মা আইএসের হাত থেকে কোনোভাবে তাদের নিয়ে বেঁচে ফিরেছেন। তাদের শুধু নিঃশ্বাসই বইছে; শরীরের আর কোনো কিছুই নেই। তাদের দেখলে চোখে পানি চলে আসে কারণ দীর্ঘদিন না খেয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরছে তারা।

তাদের শারীরিক অবস্থা এতই খারাপ যে মনে হচ্ছে এই বুঝি দম বন্ধ হয়ে গেল তাদের। বিবিসির সঙ্গে কথা বলার সময় বার বার অজ্ঞান বা অচেতন হয়ে যাচ্ছিলেন তাদের মা। যে সন্তানরা নিজে খাবার তুলে খায়নি, সব সময় তাদের মা মুখে তুলে খাইয়ে দিয়েছেন সেই সন্তানরা আজ খাবারের অভাবে মারা যাচ্ছে। কী হৃদয় বিদারক ঘটনা সেই মাকেই আজ শুধু চেয়ে চেয়ে দেখতে হচ্ছে। আজ তিনি ভুলেই গেছেন কতদিন আগে সন্তানদের পেট ভরে খাইয়েছেন।

বিবিসিকে শিশু দুটির মা জানান, আজ কতদিন তার সন্তানরা পেটভরে খাইনি তা তার মনে পড়ে না। না খেয়ে নিজের অবস্থাও ভালো নেই। কিন্তু সন্তানদের দিকে দেখতে দেখতে নিজের কথা ভুলেই গেছেন তিনি।


মা ভেবেছিলেন সন্তানরা হইতো মারা যাবে। কিন্তু এখনো তারা বেঁচে আছেন দেখে তিনি খুবই খুশি কারণ এ পরিস্থিতিকে বেঁচে থাকাটাই কঠিন।

সন্তানদের নিয়ে গত সপ্তাহে কোনভাবে মসুল শহর ত্যাগ করেছেন। এখন পাশের ইউনিসেফের একটি রিফিউজি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু ক্যাম্পের অবস্থাও ভালো নয়। কয়েকদিন হয়ে গেলেও ক্যাম্পে থেকে কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। জানা গেছে, ক্যাম্পেও কোনো খাবার নেই।

তিনি বলেন, ‘বেঁচে থাকাটা আমার, আমার স্বামী ও আমার সন্তানদের জন্য খুবই কঠিন। আমার মনে হচ্ছিল এতদিনে মরেই যেতাম। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, যে আমি এখনো বেঁচে আছি’

তার দুই ছেলের মধ্যে একটি বয়স ২ বছর আরেকটির বয়স ৯ বছর। কিন্তু তাদের দেখে প্রকৃত বয়সের চেয়ে অর্ধেক মনে হচ্ছে। কারণ তাদের শরীর হাড্ডিসার; রক্ত মাংস নেই বললেই চলে।

আইএসের হাত থেকে পালিয়ে আসার বিষয়ে নারী জানান, মৃ্তপ্রায় সন্তানদের বাঁচানোর জন্য আইএসের কাছে তিনি অনুরোধ করেছিলেন কিন্তু কাজ হয়নি। অবশেষ কোনোভাবে মসুল থেকে পালিয়ে ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। ক্যাম্পে এসে ভেবেছিলেন হইতো এখন আর মৃত্যুর ভয় নেই। কিন্তু পরে জানতে পারেন মৃত্যু এখরনা তাদের পিছু ছাড়েনি। কারণ ক্যাম্পে এত পরিমাণ মানুষ যে সেখানেও খাবার পাচ্ছেন না অনেকেই। ক্যাম্পে এমনো মানুষ আছে যারা কয়েক সপ্তাহ কোন খাবারই পাননি।

তিনি বলেন, ‘আমরা আজ চারদিন ধরে এখানে এসেছি। এখনো কোন খাবার পায়নি, পরার জন্য কোনো কাপড়ও পায়নি। ছেলে দুটিকে মেয়েদের কাপড় পরিয়ে রেখেছি।’

আইএস ও সরকারী বাহিনীর মধ্যে প্রতিদিন গোলাগুলি হচ্ছে মসুল শহরে। এ পরিস্থিতিতে জীবন হাতে নিয়ে পাশের শহরগুলোর রিফিউজি ক্যাম্পে আশ্রয় নিচ্ছেন হাজারও নির্যাতিত মানুষ। জানা যায়, মসুল শহর থেকে প্রায় ৪৭ হাজার মানুষ ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন। আর প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে আরো ৩ হাজার মানুষ। তাই এত মানুষকে খাবার দিতে হিমশিম খাচ্ছে ক্যাম্পগুলো।

মসুলপ্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন রিফিউজি ক্যাম্পগুলোতে। সংখ্যা এত বেশি হওয়ায় ঠিকমতো খাবারও দিতে পারছেন না তারা।

আইএস দমনের জন্য সরকারী বাহিনীর দ্বারা প্রতিদিন পাল্টা আক্রমণও করা হচ্ছে। তাতে কিছুটা লাভ হলেও আবার কিছুটা ক্ষতিও হচ্ছে। কারণ আইএস আক্রমণের জন্য যে বোমা হামলা করা হচ্ছে সেগুলো গিয়ে পড়ছে কোনো না কোনো সাধারণ মানুষের উপর। উড়ে যাচ্ছে তাদের বাড়ি ঘর।

দেখুন একটি রিফউজি ক্যাম্পে খাবার দেওয়া হচ্ছে ভিডিও...