রসরাজের জামিন শুনানির পরবর্তী তারিখ ৩ জানুয়ারি

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া রসরাজ দাসের জামিন শুনানির পরবর্তী তারিখ তিন জানুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা ও দায়রা জজ আদালত দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষে মো. ইসমাইল হোসেন এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে মুঠোফোনের ফরেনসিক প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর রসরাজ দাস সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর ছবি পোস্ট করেছেন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে ২৯ অক্টোবর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭(২) ধারায় তাঁকে গেফতার করা হয়। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে মন্দির ও হিন্দুদের বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরে আরো কয়েক দফা হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় নাসিরনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাওছার হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন।

ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়া রসরাজের জামিন চেয়ে আদালতে গতকাল দ্বিতীয় দফায় আবেদন জানান তাঁর আইনজীবী মো. নাসির মিয়া। তিনি বলেন, রসরাজ তাঁর মুঠোফোন থেকে এ ধরনের কোনো ছবি পোস্ট করেননি বলে ইতিমধ্যে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এদিকে গত ২৮ নভেম্বর জেলা পুলিশের কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদনে রসরাজের ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে ধর্ম অবমাননাকর সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হয়নি বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরেনসিক বিভাগ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইনও এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ফেসবুকের ওই পোস্ট রসরাজের মুঠোফোন থেকে করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। অন্য জায়গা থেকে তা পোস্ট করা হয়েছে। অন্য কেউ রসরাজের ফেসবুক আইডি ও পাসওয়ার্ড জানত। নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়নের হরণ বেড় বাজারে আল-আমিন সাইবার পয়েন্ট অ্যান্ড স্টুডিও থেকেও ছবিটি পোস্ট করা হয়নি। সেখান থেকে জব্দ করা কম্পিউটারসহ বিভিন্ন যন্ত্র পরীক্ষা করে এ মতামত দেওয়া হয়েছে।

ওই স্টুডিওর মালিক জাহাঙ্গীর আলম ফেসবুকের পোস্টটি প্রিন্ট করে এলাকায় প্রচারপত্র আকারে বিতরণ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ তাঁকে পৌর শহরের কালাই শ্রীপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। নাসিরনগরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটটি মামলায় ১০২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

"