বিচারকদের চাকরিবিধি

আরো সময় পেল সরকার

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা করতে মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে রাষ্ট"পক্ষকে আরও এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোটের" আপিল বিভাগ। রাষ্ট"পক্ষের সময়ের আবেদনের শুনানি করে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে আট বিচারকের আপিল বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।

গত ২৪ নভেম্বর রাষ।ট"পক্ষের শুনানি করে আদালত গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারকে সাত দিন সময় দিয়েছিল। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিষয়টি আদালতে উঠলে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা আরও সময়ের আবেদন করেন।

দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল দুজনেই দেশের বাইরে থাকায় আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আরও সময় প্রয়োজন।

তার বক্তব্য শুনে আদালত আরও এক সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করে এবং ওই সময়ের মধ্েয গেজেট আদালতে দাখিল করতে সরকারকে নির্দেশ দেয়।

মাসদার হোসেন মামলার চূড়ান্ত শুনানি করে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোটের" আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে ঐতিহাসিক এক রায় দেয়। ওই রায়ে আপিল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপšি' ও বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেয় সর্বো"চ আদালত।

মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়া নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃড়খলা সংক্রান্ত বিধিমালার একটি খসড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আদালতে দাখিল করা হয়। সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃড়খলা ও আপিল) বিধিমালার অনুরূপ হওয়ায় তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপš'ী বলে গত ২৮ আগাস্ট শুনানিতে জানায় আপিল বিভাগ।

এরপর ওই খসড়া সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেইসঙ্গে ৬ নভেম্বরের মধ্যে তা চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন আকারে আদালতে উপ¯'াপন করতে বলা হয় আইন মন্ত্রণালয়কে। ওই তারিখে মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় এলে অ্যাটর্নি জেনারেল কোনো অগ"গতি জানাতে না পারায় বিধিমালা চূড়ান্ত করার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা লিখিতভাবে জানাতে রাষ্ট"পক্ষকে নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ।

পরদিন অ্যাটর্নি জেনারেল সময় চেয়ে আবেদন করেন। কিš' আবেদনটি ‘অস্পষ্ট’ জানিয়ে আট সপ্তাহ সময় না দিয়ে ২৪ নভেম্বরের মধ্েয বিধিমালা চূড়ান্ত করে তা গেজেট আকারে জারি এবং আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিল সর্বো"চ আদালত। এরপর আরও দুই দফায় সাত দিন করে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হল সরকারকে।

"