বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগ্রহ হারাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মোট আসনের অর্ধেকের বেশি খালি রয়েছে

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

উচ্চ শিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। অথচ উচ্চশিক্ষা প্রসারের নামে প্রতি বছরই নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম হচ্ছে। আবার পুরনোগুলোতে খোলা হচ্ছে নতুন নতুন বিভাগ। কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার আগ্রহ কমে গেছে।

বর্তমানে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় মোট আসনের অর্ধেকই বেশি খালি থাকছে। বিগত ২০১৫ সালে দেশে ৮৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমে ছিল। ওই শিক্ষাবর্ষে ওসব বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলে আসন ছিল ২ লাখ ৭৯ হাজার ৮৯০টি। তার বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থী পায় ১ লাখ ২০ হাজার ৮৪২ জন। ওই হিসাবে ২০১৫ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭ শতাংশ আসনই খালি ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে কর্মরত প্রায় প্রতিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ই নির্দিষ্ট আসন অনুপাতে শিক্ষার্থী পাচ্ছে না। ২০১৪ সালেও শিক্ষা কার্যক্রমে থাকা ৭৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ২ লাখ ৩৫ হাজার ২টি আসনের বিপরীতে শিক্ষার্থী পেয়েছিল ১ লাখ ২১ হাজার ১৯৪ জন। অর্থাৎ ওই শিক্ষাবর্ষে আসন খালি ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৮০৮টি। যা মোট আসনের ৪৮ শতাংশ। ২০১৩ সালে শিক্ষা কার্যক্রমে থাকা ৬৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলে আসন ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৩৬৯টি। আর তার বিপরীতে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৬৫ জন শিক্ষার্থী। ওই হিসাবে ওই শিক্ষাবর্ষে আসন খালি ছিল ৪৪ শতাংশ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতকের চেয়ে স্নাতকোত্তরে বেশি সংখ্যক আসন খালি থাকছে। ২০১৫ সালে স্নাতক পর্যায়ে ৫৩ শতাংশ আসন খালি থাকলেও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ওই হার ছিল ৬৯ শতাংশ। আর ২০১৪ সালে স্নাতক পর্যায়ে আসন খালি ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ। অথচ ওই শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তরে আসন খালি ছিল ৬০ শতাংশ। একইভাবে ২০১৩ সালে স্নাতকে ৪৩ শতাংশ আসন খালি থাকলেও স্নাতকোত্তরে ওই হার ছিল ৫৭ শতাংশ।

সূত্র জানায়, বিগত ২০১৫ সালে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। ওই বছর ৯ হাজার ৬০০টি আসনের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৪৬৫। আর শিক্ষার্থী ভর্তিতে সবচেয়ে পিছিয়ে ছিল জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। ৩০০ আসনের ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে সে বছর ভর্তি হয়েছিলেন মাত্র ৫৩ জন শিক্ষার্থী। তাছাড়া জেলা শহরে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও কাক্সিক্ষত হারে শিক্ষার্থী পায়নি। কিন্তু দেশে কর্মরত পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যথেষ্ট শিক্ষার্থী না পেলেও থেমে নেই নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন। ২০১৬ সালেই নতুন করে অনুমোদন দেয়া হয়েছে ১২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। আর অনুমোদন চেয়ে আবেদন জমা পড়েছে আরো শতাধিক। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১৯৯২-২০১১ দুই দশকে অনুমোদন পায় ৫২টি বিশ্ববিদ্যালয়। অথচ ২০১২-১৬ পাঁচ বছরেই অনুমোদন দেয়া হয়েছে ৪৩টি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়। ওসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশেরই অনুমোদন দেয়া হয়েছে দলীয় বিবেচনায়। প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনেই রয়েছে হয় রাজনৈতিক ব্যক্তি, না হয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী। তাছাড়া ওসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০-১২টি ছাড়া অন্যগুলোর বিরুদ্ধে শর্ত না মানাসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক সুবিধাদি গড়ে না ওঠা, যোগ্য শিক্ষকের অভাব ও বাজারে গ্রহণযোগ্যতার সঙ্কট শিক্ষার্থী না পাওয়ার অন্যতম কারণ। শিক্ষার গুণগত মান ও শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে ওই সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। তবে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সন্তোষজনক।

"