ঢাকায় ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী

আলোচনার গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহার গোপালকৃষ্ণ প্রভূ পার্রিকার গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। তার এই দুইদিনে সফর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। তবে মন্ত্রীর এই সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে বেশ আলোচনা চলছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয় বাংলাদেশে ও চীনের মধ্যে বাড়তে থাকা কৌশলগত সম্পর্কের বিষয়টি ভারতীয় এই মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। ভারতীয় বেশিরভাগ সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে চীনের অর্থনৈতিক এবং সামরিক প্রভাব যেভাবে বাড়ছে, তাতে ভারত উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে সম্প্রতি চীন বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে দুটি সাবমেরিন দেয়ার পর বিষয়টি ভারতকে বেশ ভাবনায় ফেলেছে বলে মনে করছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

মনোহার পার্রিকারের বাংলাদেশ সফর নিয়ে গত ১৫ই নভেম্বর টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘টু কাউন্টার চায়না, গভর্ণমেন্ট রাশিং ডিফেন্স মিনিস্টার মনোহার পার্রিকার টু বাংলাদেশ।’ অর্থাৎ চীনের প্রভাব মোকাবেলায় ভারত সরকার তড়িঘড়ি করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহার পার্রিকারকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে। এই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পার্রিকারের এই সফরের লক্ষ্য বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা তৈরি করা। চীনের কাছ থেকে দুটি সাবমেরিন পেয়েছে বাংলাদেশ। সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে ঐ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছিল, এই সফরের সময় একটি নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে থাকবে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, প্রশিক্ষণ এবং যৌথ মহড়া এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা। ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআই বলছে, মিস্টার পার্রিকারের এই সফরের সময় দুদেশের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির বিষয় চূড়ান্ত করা হবে। ডিসেম্বরের শেষের দিকে যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে যাওয়ার কথা, সেসময় এই চুক্তিটি সই হতে পারে। তবে পিটিআই বলছে, বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে সম্প্রতি যে দুটি সাবমেরিন পেয়েছে, তার সঙ্গে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই সফরের কোন সম্পর্ক নেই।

উল্লেখ্য দুই সপ্তাহ আগে চীনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ পেয়েছে বাংলাদেশ। আগামী বছরের শুরুতে ‘বানৌজা নবযাত্রা’ এবং ‘বানৌজা জয়যাত্রা’ নামে এই সাবমেরিন দুটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য তৈরি করা ০৩৫ জি ক্লাসের এই কনভেনশনাল সাবমেরিন দুটি টর্পেডো এবং মাইন দ্বারা সু-সজ্জিত, যা শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন আক্রমণ করতে সক্ষম।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করছে যে, চীন বাংলাদেশকে যেধরনের বিপুল অর্থনৈতিক এবং সামরিক সহায়তা দিচ্ছে, তার সঙ্গে টক্কর দেয়ার সক্ষমতা তাদের নেই।

মধ্য অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যখন বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিলেন, তখন আড়াই হাজার কোটি ডলারের ২৭টি চুক্তি হয়েছিল। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘চীনের এই অর্থনৈতিক পেশিশক্তি সঙ্গে যেমন টক্কর দেয়ার সক্ষমতা ভারতের নেই, তেমনি চীনের মত বিকশিত সামরিক শিল্প ভিত্তিও ভারতের নেই।’

এদিকে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকরের নেতৃত্বে এসেছে ১১ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদল। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় ভারতীয় বিশেষ বিমানে করে কুর্মিটোলায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ঘাঁটি বঙ্গবন্ধুতে পৌঁছান। এ সময় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান তাঁদের অভ্যর্থনা জানান। সেখানে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শিংলাও উপস্থিত ছিলেন। এই দুই দিনের সফরে যা রয়েছে, ভারতীয় এই প্রতিনিধিদলটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

এরপর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গেও তাঁদের দেখা করার কথা।

সফররত ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সম্মানে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাবাহিনী মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে এক নৈশভোজ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় এই প্রতিনিধিদল দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে আজ বৃহস্পতিবার নিজ দেশে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

"