মসজিদের ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, মামলা

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ‘আল্লাহ করিম জামে মসজিদের’ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মসজিদ কমিটির সাবেক এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এই মসজিদের বিগত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আবদুল কাদের মসজিদের দোকান বরাদ্দ ও ভাড়ার ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে মামলার এজাহারে উঠে এসেছে।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর জানান, মসজিদের ওয়াকফ এস্টেটের পক্ষে কাঁটাসুরের জহির হোসেন গত ১৫ নভেম্বর এ মামলা করেন। জহিরের অভিযোগ, ২০০৫-১৬ মেয়াদে মসজিদ কমিটিতে থাকার সময় আবদুল কাদের ওই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে ওয়াকফ এস্টেটের ওই মসজিদের নিচতলায় ১০৪টি দোকান রয়েছে। এ ছাড়া দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলার কিছু অংশ বাণিজ্যিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এসব দোকান ও প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ দেওয়ার নাম করে আবদুল কাদের পৌনে ২ কোটি টাকা এবং দোকান থেকে আসা ভাড়াসহ প্রায় ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

মামলার বাদী বলেন, কাদেরের স্বাক্ষরে দোকান বরাদ্দ ও ভাড়া আদায় হলেও তা মসজিদ তহবিলে জমা পড়েনি। স্বাক্ষরসহ ওই লেনদেনের প্রমাণ পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে। কাদের ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রতিটি দোকানকে ‘৯৯ বছরের জন্য লিজ দেন’ বলেও মোহাম্মদপুর থানায় করা মামলায় বলা হয়েছে। জহির আরো জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ওই মসজিদ কমিটি বাতিল করে ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ তাকেসহ কয়েকজনকে দায়িত্ব দিয়েছে। আর ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই তিনি এ মামলা করেছেন। এদিকে মামলার আসামি আবদুল কাদের গত সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছিলেন বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী আন্না খানম কলি জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, আসামি গোপনে আদালতে এসে জামিনের আবেদন করছে জানতে পেরে আমরা আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের বিরোধিতা করি। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা পরে তাদের আবেদন ‘নজিরবিহীনভাবে’ উঠিয়ে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাদেরের আইনজীবী আইয়ুবুর রহমান বলেন, ‘শুনানির পর আমরা আদেশের অপেক্ষায় ছিলাম। আদালত আদেশ না দেওয়ায় আমরা নথি ফেরত নিয়েছি। আদালত চাইলে নথি ফেরত দিতে পারে।’ কাদের আত্মগোপনে থাকায় এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ওসি জামাল বলেন, ‘এরই মধ্যে কয়েকবার তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

"