আগারগাঁওয়ে খালের ওপর ভবন নির্মাণ বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

ঢাকার আগারগাঁওয়ে খাল দখল করে মমতা কো-অপারেটিভ সোসাইটির বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। জনস্বার্থে করা একটি রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

গত ২ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘ঢাকার আরেকটি খাল মৃত্যুমুখে’ শিরোনামের প্রতিবেদন যুক্ত করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে এ রিট করা হয়। পরে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের জানান, আদালত এ নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি রুলও দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রুলে খাল দখল করে ভবন নির্মাণে ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, নিজ খরচে মমতা হাউজিং সোসাইটির ভরাট করা মাটি অপসারণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং সিএস ও আরএস অনুসারে খালটি সংরক্ষণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।’

চার সপ্তাহের মধ্যে পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা জেলা প্রশাসক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, মিরপুরের এসি ল্যান্ড, মমতা হাউজিং সোসাইটিসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানান এ আইনজীবী।

রিট আবেদনে যুক্ত দৈনিকটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছেÑ‘আগারগাঁও-শ্যামলী লিংক রোডের বাংলাদেশ বেতারের পাশ দিয়ে মিরপুরের দিকে চলে গেছে ৬০ ফুট প্রশস্ত সড়ক। এ সড়ক ধরে তিন শ ফুট এগোলেই তিতাস গ্যাসের প্রধান কার্যালয়ের নবনির্মিত বহুতল ভবন। এর আগেই রাস্তার পশ্চিম পাশ দিয়ে চলে গেছে খালটি। কিছুদূর এগিয়ে বাঁয়ে বাঁক নিয়ে খালটি অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। সেখানে একপাশে তৈরি হচ্ছে ১৭ তলার মমতা বহুমুখী সমবায় সমিতি শপিং কমপ্লেক্স।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ‘মমতা বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী বেলায়েত হোসেন নকশায় ৩০ ফুট খাল থাকার কথা স্বীকার করেন। তবে তারা কোনো খাল ভরাট বা দখল করেননি বলে দাবি করেন। ১৯৯৬ সালের দিকে তারা পূর্ত বিভাগ থেকে এক একর জমি বরাদ্দ নেন। এরও ২০ শতাংশ ছেড়ে তারা মার্কেটের নকশা করেছেন। তিনি বলেন, খাল দখলের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। দখল করেছে তাদের বিপরীত পাশের প্লটের মালিক।’

‘এ বিষয়ে পূর্ত বিভাগের ওই এলাকার দায়িত্ব পালনকারী শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আতাউর রহমানও ৩০ ফুট খালের কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, খালের কিছু জমি মমতা বহুমুখী সমবায় সমিতি শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরে পড়েছে। সেটা ১০ ফুট হতে পারে। এটা ছেড়ে দেওয়া কোনো ব্যাপার নয়। ওই স্থানের বস্তিগুলো উচ্ছেদ করার জন্যই এটা করা হয়েছে। ওয়াসা খাল খনন করতে চাইলে খালের জমি ছেড়ে দেওয়া হবে। খালটি বেঁচে থাক, এটা তিনিও চান। কারণ খাল রক্ষার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।’

"