অন্য দল ক্ষমতায় এলে দেশ পিছিয়ে পড়বে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে আবারো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনতে প্রচার কার্যক্রম চালানোর জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অন্য কোনো দল ক্ষমতায় এলে দেশ পিছিয়ে পড়বে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের ফোর সিজনস হোটেলে অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। বাসস।

শেখ হাসিনা বলেন, কেবল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। অন্য কোনো দল ক্ষমতায় এলে দেশ পিছিয়ে পড়বে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে, এ জন্যই আওয়ামী লীগ আন্তরিকভাবে দেশের উন্নয়ন চায়। দেশকে উন্নত করা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব এবং এটি আমরা অব্যাহত রাখব, ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া দল। যে দল দেশের স্বাধীনতা নিয়ে এসেছে, কেবল তারাই দেশের উন্নয়ন করতে পারে। অন্য কোনো দল তা পারবে না। এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের আগামী সাধারণ নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানান তিনি।

সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ নেতা অনিল দাসগুপ্ত। অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় দেশ থেকে আসা আওয়ামী লীগ নেতারা বক্তব্য দেন। এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং এলজিআরডি ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের পর ২১ বছর পর্যন্ত যে দলগুলো রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল, তাদের জবাবদিহি করতে হবে যে কেন তারা দেশের উন্নতি করতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে স্থলসীমান্ত ও সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি করেছে। কিন্তু জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সরকারের এসব ইস্যু উত্থাপনেরও সাহস ছিল না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার ছেলে কোকোর মৃত্যুর পর সমবেদনা জানাতে আমি তার (খালেদা) বাসায় গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বাসায় ঢোকার সুযোগ দেননি। ভেতর থেকে বাসার গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এইচআইভি আক্রান্তদের চিকিৎসায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এইচআইভি আক্রান্তদের চিকিৎসায় সামাজিক বৈষম্যহীনতা সুনিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি অন্য সংস্থাসমূহ এবং প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজস্ব প্রেক্ষাপট থেকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা ‘বিশ্ব এইডস দিবস ২০১৬’ পালন উপলক্ষে এক বাণীতে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এইচআইভি সংক্রমণ শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয় বরং এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর এর সামাজিক, আর্থিক এবং মানসিক নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। সুতরাং এইচআইভি নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূল করার লক্ষ্যে প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কর্মসূচিসমূহ বাস্তবায়নের পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন মেনে চলা, পারিবারিক সুসম্পর্ক বজায় রাখা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, ইতিবাচক মনোবৃত্তির পরিচর্যা, উন্নত মননশীলতা এবং সুকুমার বৃত্তির অনুশীলন অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) অনেকগুলো সূচক যথার্থভাবেই অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। যার অন্যতম একটি হলো এইচআইভি সংক্রমণ কমানো।

হাঙ্গেরি থেকে আকাশ প্রদীপে চড়ে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী

পানি সম্মেলন উপলক্ষে হাঙ্গেরিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশের পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বেলা সোয়া ৩টা) বুদাপেস্টের ফিরেন্স লিজৎ বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৭৭ ‘আকাশ প্রদীপ’ প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হয়।

বিদায়ের সময় হাঙ্গেরির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সশস্ত্র সালাম জানায়। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ও হাঙ্গেরিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আবু জাফর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

হাঙ্গেরিতে বাংলাদেশের প্রথম সরকারপ্রধান হিসেবে এই সফরে পানি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন শেখ হাসিনা। তাদের উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে তিনটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী গত রোববার বুদাপেস্ট পৌঁছালে বিমানবন্দরে তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এই সফরে তিনি অবস্থান করেন ফোর সিজনস হোটেল গ্র্রেশাম প্যালেসে। দানিয়ুব নদীর পাড়ে ওই হোটেলের সামনের রাস্তা, সেতু, হাঙ্গেরির জাতীয় সংসদের সামনের কসুথ স্কয়ার এবং হিরোজ স্কয়ার সাজানো হয় বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরি পতাকা দিয়ে। শেখ হাসিনার নিরাপত্তায় হোটেলে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার প্রধানমন্ত্রী বুদাপেস্ট ওয়াটার সামিটে যোগ দেন। সফরের তৃতীয় দিন কর্মব্যস্ত সময় কাটান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দিনের শুরুতে হিরোজ স্কয়ারে হাঙ্গেরির জাতীয় নেতা ও সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে কসুথ স্কয়ারে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। হাঙ্গেরির সংসদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর আরবানের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন তিনি। পরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন দুই নেতা। আগামী বছর থেকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য চিকিৎসা, কৃষি এবং বিজ্ঞান শিক্ষায় পূর্ণ বৃত্তি দিতেও সম্মত হয়েছে হাঙ্গেরি।

"