পলাশকান্দা ট্র্যাজেডি দিবস আজ

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

আজ ৩০ নভেম্বর পলাশ কান্দা ট্র্যাজেডি দিবস। ১৯৭১-এর এই দিনে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে এক সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ, মনজু, মতি ও জসিম। প্রতি বছর এই দিনটি গৌরীপুর শহীদ দিবস বা পলাশকান্দা ট্র্যাজেডি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, চাঁদের হাট, যুগান্তর স্বজন সমাবেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

১৯৭১ সালের এই দিনে। গৌরীপুরসহ সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা হামলায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তখন দিশাহারা। এ সময় মুজিব বাহিনীর একটি গেরিলা দল গৌরীপুর ও ঈশ্বরগঞ্জের সীমান্তবর্তী গ্রাম পলাশকান্দায় অবস্থান নেয়। মুজিব বাহিনীর কমান্ডার মো. মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই দলে ছিলেন মো. তমিজ উদ্দিন, মরহুম আনোয়ারুল হক খায়ের, আবদুল জলিল, নুরুল আমীন, আবদুস সাত্তার, এ কে এম নজরুল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, আনোয়ারুল ইসলাম মনজু, সিরাজুল ইসলাম, মোখলেছুর রহমান চাকদার, মতিউর রহমানসহ ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধা। পলাশকান্দায় অবস্থানরত মুজিব বাহিনীর গেরিলা দলের উদ্দেশ্য ছিল ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কনভয় ও ক্যাম্পের ওপর হামলা করা। কিন্তু একই গ্রামের অধিবাসী রাজাকার মজিদ মাস্টার মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা দলের অবস্থানের খবর অত্যন্ত সুকৌশলে পৌঁছে দেয় ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে। সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানি হানাদার, রাজাকার ও আলবদরের সম্মিলিত বাহিনী পলাশকান্দায় মুজিব বাহিনীর ক্যাম্পের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় মুজিব বাহিনীর দলটি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈশ্বরগঞ্জের মাইজকা হানাদার ক্যাম্প আক্রমণের জন্য রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইতোমধ্যে হানাদার বাহিনী তিন দিকে ঘিরে ফেলে এবং বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে থাকে। কমান্ডার মুজিবুর রহমান ও পাল্টা গুলি ছোড়ার আদেশ দেন। আকস্মিকভাবে আক্রান্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা এ সময় দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোললেও পাকিস্তানি বাহিনীর ভারী অস্ত্রের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়। সেই সঙ্গে যুদ্ধরত অবস্থায় জসিম উদ্দিন হানাদার বাহিনীর ব্রাশফায়ারে শহীদ হন। এ সময় হানাদারের হাতে আহত অবস্থায় ধরা পড়ে আনোয়ারুল ইসলাম মনজু, মতিউর রহমান ও সিরাজুল ইসলাম।

জানা যায়, ধরাপড়া তিনজন মুক্তিযোদ্ধাকে হানাদার ক্যাম্পে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে পরে ব্রহ্মপুত্রের নদীর চরে তাদের চোখ বেয়নট দিয়ে খুঁচিয়ে উপড়ে হত্যা করে। পরদিন ১ ডিসেম্বর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জসীম উদ্দিনকে পলাশকান্দায় সমাহিত করা হয় ও প্রচ- ক্ষোভে মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকার মজিদ মাস্টারের কান কেটে দেয়। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা মোখলেছুর রহমান চাকদার মারাত্মক আহত হন। শহীদের স্মৃতি চির অম্লান করে রাখার জন্য স্বাধীনতার পর গৌরীপুর পৌর শহরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল শহীদ সিরাজ-মঞ্জু স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পলাশকান্দায় নবপ্রজন্মের মাধ্যে তাদের ইতিহাস পৌঁছে দিতে বিগত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৌমেন্দ্র কিশোর মজুমদার শহীদের স্মৃতিতে স্মৃতিফলক নির্মাণ করেন। প্রতি বছর এই ফলকে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও শহীদ জসীমের কবর জিয়ারতসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়।

"