মালয়েশিয়ায় ৭৬৭ বাংলাদেশি আটক

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বিদেশ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

মালয়েশিয়ার সমুদ্রতীরের পোর্ট ডিকসনের ঝিমায় অভিযান চালিয়ে ৭৬৭ বাংলাদেশিসহ ৯৩৬ জনকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ। পুলিশের দাবি, এরা অবৈধ অভিবাসী। গত রোববার দিনভর এ অভিযান পরিচালনা করে মালয়েশিয়ার পুলিশ।

আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন ৭৬৭ জন। এ ছাড়া পাকিস্তানি ৮০, ৫০ জন ভারতীয়, ২২ জন ইন্দোনেশীয়, ১৩ জন শ্রীলঙ্কান, তিনজন মিয়ানমারের এবং একজন নেপালি। গ্রেফতারকৃত অবৈধ শ্রমিকদের বয়স ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। এসব তথ্য জানিয়েছেন, নেগ্রি সেমবিলানের ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক হাফদজান হুসাইনি। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা বারনামার বরাত দিয়ে দেশটির নিউজ স্ট্রেইটস টাইমস অনলাইনের এক খবরে গতকাল সোমবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিচালক হুসাইনি আরো জানিয়েছেন, বেশ কিছু অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ভুয়া নথিপত্র দেখিয়ে মালয়েশিয়া প্রবেশ, নির্ধারিত মেয়াদ শেষেও সে দেশে অবস্থান। মূলত এ দুটি প্রধান কারণ। বাংলাদেশিদের কাছে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পায়। কিন্তু দালালদের খপ্পরে পড়ে অথবা অবৈধভাবে সেখানে অবস্থান করে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণশিল্প, পামবাগানের কাজসহ নি¤œমানের বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন বাংলাদেশিরা। সে দেশে জনশক্তি রফতানিতে আগ্রহী বাংলাদেশ সরকার। এখন প্রায় ৬ লাখ বাংলাদেশি দেশটিতে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতারের ঘটনা নতুন নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে একসঙ্গে ৯১৭ বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া প্রায়ই বাংলাদেশিদের আটকের ঘটনা ঘটে থাকে। সাজার মেয়াদ শেষে খালি হাতে ফিরতে হয় তাদের।

সম্প্রতিকালে চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া শ্রমিকদের নিয়োগ চুক্তি নবায়নের সুযোগ দেয় মালয়েশিয়া। কিন্তু তাতে খুব বেশি সাড়া পাওয়া যায়নি। এদিকে চুক্তি নবায়নের সুযোগ শেষ হতেই অবৈধ অভিবাসীদের আটকে অভিযান শুরু করেছে দেশটি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, এসব খবর ওরা সঙ্গে সঙ্গে জানায় না, কিছুদিন সময় নেয়। তবে মুখে মুখে কিছু তো ইনফরমেশন আমাদের কাছে আসে। তারপর আমরা যোগাযোগ করি। টেলিফোনের পরও ওরা (মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ) নিশ্চিত করে কোনো কিছু বলে ন?া। ওরা হয়তো বলে ৩০০ বা ২০০-এর মতো ধরেছি। যারা আটক হয়, তাদের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র থাকে না। ফলে তাদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি সেটা সহজে বলা কঠিন।

"