অবর্ণনীয় দুর্ভোগের পর চট্টগ্রামে পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো
ADVERTISEMENT

বৃহত্তর চট্টগ্রামে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে টানা ৯ ঘণ্টা পরিবহন ধর্মঘটের পর বিকাল ৩টায় তা স্থগিত করা হয়েছে। ধর্মঘটে নজিরবিহীন দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিকশা, ভ?্যান, পিকআপে গাদাগাদি করে গন্তবে?্য ছুটেন মানুষ।

এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর অক্সিজেন বাসস্ট্যান্ড, বহদ্দারহাট বাসস্টেশন থেকেও কোনো গাড়ি তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারের দিকে যায়নি। নগরীতে চলেনি বাস, ট্রেম্পোসহ সব ধরনের গণপরিবহন। ফলে অনেকে হেঁটেই রওনা হন গন্তব্যের দিকে। দিনভর নগরীর বিভিন্ন মোড়ে গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে মানুষকে। খালি রিকশা, অটোরিকশা, রিকশাভ?্যান দেখলেই দল বেঁধে ছুটে যান অনেকে। যারা রিকশা-গাড়িতে উঠতে পারছেন না, তারা বাধ্য হয়ে হেঁটেই গন্তব্যে রওনা হন।

এর আগে বাস-ট্রাক-প্রাইম মুভার ও ট্রেইলারের জন্য টার্মিনাল নির্মাণ, পুলিশি হয়রানি বন্ধ, অটোরিকশার পার্কিং স্পট, সিএনজি অটোরিকশার নিবন্ধন ও মালিকের জমা ছয় শ টাকা নির্ধারণসহ নয় দফা দাবিতে একদিনের এ ধর্মঘট ডেকেছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। এরপর মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সিএমপি কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে ধর্মঘট আহ্বানকারী পরিবহন শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মাসুদ-উল-হাসান এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনার সঙ্গে বৈঠকে পরিবহন শ্রমিক নেতাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর বিকাল ৩টা থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. মুছা বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া হবে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছি। আশা করছি আমাদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।’

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মাসুদ-উল-হাসান বলেন, পরিবহন নেতাদের দাবিগুলো আমরা বিবেচনায় নিয়েছি। আগামী ৪ ডিসেম্বর সিটি মেয়রের সঙ্গে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে মেয়র ও পুলিশ কমিশনারের কাছে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরা হবে।’

"