খাতভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়নের চিন্তা সরকারের

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে আলোচনার সুযোগ বাড়াতে তাদের নিয়ে খাতভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ দিতে চায় সরকার। সচিবালয়ে গতকাল মঙ্গলবার শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মিকাইল হেমনিটি উইনথারের সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশে সেক্টরভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন আছে, আমাদের দেশে ফ্যাক্টরি টু ফ্যাক্টরি। এজন্য অনেক সময় কাজের প্রবলেম হয়। সেক্টরের যদি ট্রেড ইউনিয়ন থাকে তবে সেক্টরের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ হয়।’

এ বিষয়ে ডেনমার্কের অভিজ্ঞতা জানতে সম্প্রতি সে দেশ সফর করেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব, যুগ্মসচিবসহ কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা ফিরে এসে একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বর্তমানে দেশে একটি কারখানায় একটি ট্রেড ইউনিয়ন থাকার প্রসঙ্গে টেনে চুন্নু বলেন, ‘তারা শুধু ওই ইন্ডাস্ট্রির প্রবলেমের কথা বলছেন। কিন্তু ওই সেক্টরে তো ওভারঅল অনেক প্রবলেম আছে। সেক্টরভিত্তিক তো কেউ আলোচনা করার সুযোগ পাচ্ছে না। সেক্টরভিত্তিক যদি কিছু করা যায় আমার মনে হয় তা ভালো হবে।’

সংবাদপত্রের তথ?্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে দেশে নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে সাত হাজারের মতো। এসব ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য সংখ?্যা ২৩ লাখের বেশি। শ্রম প্রতিমন্ত্রী জানান, ডেনমার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের ‘সোশ্যাল ডায়ালগের’ একটি চুক্তি রয়েছে। বাংলাদেশে ট্রেড ইউনিয়ন জোরদার করার বিষয়েও ডেনমার্ক কারিগরি সহযেগিতা দিচ্ছে। ফ্যাক্টরি পরিদর্শনে তাদের সিস্টেমটা কি তা জানলাম, আমাদের সিস্টেমটা তাদের বললাম। আমরা যদি অকুপেশন হেলথ অ্যান্ড সেফটি নিয়ে ট্রেইনিং সেন্টার করতে চাই ডেনমার্ক আমাদের টেকনিক্যালি হেল্প করতে পারবে বলে জানিয়েছে।’

কারাখানার নিরাত্তার জন্য বাংলাদেশ কোনো উদ্যোগ নিলে তাতেও ডেনমার্ক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

সরকারের উদ্যোগে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০টি কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু কারখানা রেডমার্ক করে বন্ধ করে দিয়েছি। অনেকগুলোকে সময় বেঁধে দিয়ে সংস্কার করতে বলেছি। আমাদের নির্দেশনায় সংস্কার কাজটা একটু স্লো হচ্ছে, তবে হচ্ছে। খুব বেশিদিন বোধ হয় আর লাগবে না।’ বর্তমানে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের হাতে কারখানার পরিদর্শন ও সংস্কারের বিষয়টি থাকলেও ২০১৮ সালে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সেই দায়িত্ব নেবে বলে শ্রম প্রতিমন্ত্রী জানান।

"