বাংলাদেশের ওষুধে বাঁচছেন পাকিস্তানের দুস্থরা

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

আফ্রিকার জাম্বিয়া, পূর্ব টিমোর, উগান্ডা, দক্ষিণ পূর্ব আফ্রিকার বুরুন্ডিরসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ। এ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানও। লোকলজ্জার কারণে পাকিস্তান সরকার সরাসরি না নিলেও ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশটিতে যাচ্ছে ওষুধ। শর্ত অনুসারে বিনামূল্যে পৌঁছাচ্ছে দুস্থ মানুষের ঘরে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে পাকিস্তানসহ বিশ্বের অন্যান্যা দরিদ্র দেশের অসহায় দুস্থরা।

স্বাস্থ্যে অরক্ষিত দেশে নজর দিচ্ছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। তাদের লক্ষ হচ্ছে নারী-শিশুদের ভোগান্তি দূর করা। পুষ্টিকর খাদ্য, ওষুধের অভাবে সুস্থ থাকাটা যেন অসম্ভব হয়ে না দাঁড়ায়। ইউনিসেফ যাদের থেকে ওষুধ কেনে সেই তালিকায় আছে বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সুইজারল্যান্ড।

ইউনিসেফ ওষুধ সরবরাহ করছে ১২টি দেশে। এই ১২টি দেশের মধ্যে বেশির ভাগই যাচ্ছে পাকিস্তানে। আর বাকি ১১ দেশ হচ্ছে মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, জাম্বিয়া, ইয়েমেন, রোয়ান্ডা, উগান্ডা, বুরুন্ডি, আইভরি কোস্ট বা কোট ডি’আইভরি এবং পূর্ব টিমোর বা টিমোর লেসতে।

পূর্বমধ্য আফ্রিকার জাম্বিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা জবুথবু। এর সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ পূর্ব টিমোরের দুঃখের দিনও শেষ নেই। এ দেশটি ২০০২ সালের ১৯ মে স্বাধীনতা পেয়েছে। ৪৫০ বছরের পর্তুগিজ আর ২৪ বছরের ইন্দোনেশীয় শাসনে শুকিয়ে কাঠ। দরিদ্রতার কাঠঘর থেকে বের হতে পারেনি ৮৫ শতাংশ মানুষ। শ্রমিকদের মজুরি দিনে ৫৫ মার্কিন সেন্টের কম। দেশটিতে কফি ছাড়া রফতানি করার কিছু নেই। অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎ নেই। শিক্ষা-স্বাস্থ্য পরিসেবাও রয়েছে নাগালের বাইরে। বাংলাদেশের ওষুধ তাদের কাছে বিরাট সান্ত¡না। পশ্চিম এশিয়ার ইয়েমেন অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য লড়াই করে ক্লান্ত। আলকায়দার শাখা সংগঠন আলসার-আল-শারিয়া, হাইথিস বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে আছে। রাষ্ট্রপতি আবদ হাদি হালে পানি পাচ্ছেন না।

এদিকে তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো অবস্থা পশ্চিম আফ্রিকার আইভরি কোস্ট। ১৯৮৬ সালে ফরাসি উচ্চারণে দেশটির নাম হয় কোট ডি আইভরি। হাতির দাঁতের বাণিজ্যে সুনাম থাকায় আইভরি শব্দটা দেশের নামে জড়িয়ে আছে। বর্তমানে অর্থনীতি দাঁড়িয়ে কোকো রফতানির ওপর। বিদেশি বিনিয়োগ কিছুটা বেড়েছে। পূর্ব আফ্রিকার উগান্ডা নামটা প্রাচীন বৃগান্ডা সা¤্রাজ্যের দেওয়া। বরফ-ঢাকা পাহাড়, ঘন অরণ্য, বিশাল হ্রদ, মরুভূমিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসীম। তবে অর্থনীতিতে নির্ভর নয় দেশটি। কচ্ছপের মতো নড়তেই চায় না। পূর্বমধ্য আফ্রিকার রোয়ান্ডায় বহুদলীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর শান্তি ফিরলেও অর্থনীতি উঠে দাঁড়াতে পারছে না।

অন্যদিকে দক্ষিণ পূর্ব আফ্রিকার বুরুন্ডির অবস্থা সত্যিই শোচনীয়। দরিদ্র ঘনবসতিপূর্ণ দেশটিতে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা ভয়ঙ্কর উপজাতি যুদ্ধ। কিছুতেই থামে না। সামান্য বিরতির পর নতুন করে শুরু। ক্ষুধার্ত শিশুর কান্নায় বাতাস ভারী। তাদের ভরসা বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ভিটামিন আর মিনারেল ঠাসা মাইক্রোনিউট্রেট পাউডার ‘ইঙ্গাবৃরু’। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের বাঁচার রসদ। মাতৃদুগ্ধের বিকল্প হিসেবে ঘরে ঘরে আদৃত।

বাংলাদেশ থেকে ওআরএস আর জিঙ্ক কোপ্যাক যায় নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারে, যা স্যালাইনের কাজ করে। বাংলাদেশের হরমোন ক্যাপসুল এই ১২টি দেশ ছাড়াও যাচ্ছে আরো ১২৩টি দেশে। মালয়েশিয়া সরাসরি বাংলাদেশ থেকে ৪ কোটি ২০ লাখ হরমোন ক্যাপসুল নিয়ে ১৪১টি হাসপাতালে নারীদের বিতরণ করেছে। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ইউনিসেফ বাংলাদেশের ওষুধ গ্রহণ করছে। ফলে বিশ্বের অন্যান্যা দেশও বাংলাদেশের মুখাপেক্ষী হচ্ছে। সূত্র : আনন্দবাজারপত্রিকা

"