ভোকেশনাল পরীক্ষায় প্রকাশ্যে নকল

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বেনাপোল প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

যশোরের শার্শায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত নবম শ্রেণির ভোকেশনাল সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সামনেই প্রকাশ্যে নকল করেছে। নিয়ম উপেক্ষা করে এভাবে বই দেখে লিখলেও যেন দেখার কেউ নেই। সরকার যখন শিক্ষা ক্ষেত্রে অনিয়ম ও নকল প্রতিরোধে দেশজুড়ে কাজ করছে ঠিক তখন শিক্ষকদের সহযোগিতায় অবাধে নকলের এই মহা-উৎসব অবাক করেছে সমাজের সচেতন মানুষদের। বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা অনেকটা অবাক হলেও যেন কোনো অনুসূচনা নেই পরীক্ষা কেন্দ্র দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের।

গতকাল সোমবার সকালে কারিগরি শিক্ষার নবম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষা কেন্দ্র শার্শা পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন একজন শিক্ষক। প্রায় সব পরীক্ষার্থীর সঙ্গেই রয়েছে স্কুলব্যাগ। তারা শিক্ষকের সামনেই ব্যাগ থেকে বই বের করে অবাধে তা দেখে দেখে লিখছে। জানা যায়, কারিগরি পরীক্ষার গুরুত্ব কোনো অংশে কম না। পরে এই পরীক্ষার ২৫% মার্ক এসএসসি বোর্ড পরীক্ষায় যোগ হবে। শার্শা উপজেলার ৩টি স্কুলের পরীক্ষার্থীদের নিয়ে একটি কেন্দ্র তৈরি করে সেখানে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে মারাত্মক আরেকটি অনিয়ম ধরা পড়েছে এই পরীক্ষা কেন্দ্রে। পরীক্ষায় নিজের প্রতিষ্ঠান বা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো শিক্ষক ওই কেন্দ্রের অনাভ্যন্তরীণ ব্যবহারিক পরীক্ষায় নিয়োগ হতে পারবে না, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক এমন নির্দেশনা থাকলেও এখানে সে নিয়ম মানা হয়নি। নিজ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়োগ দিয়েছেন কেন্দ্রসচিব কামরুজ্জামান। এসব অনিয়মের ফলে অবাধে পরীক্ষার্থীরা নকলের সুযোগ পাচ্ছে। কেন্দ্রসচিব উপজেলা নির্বাচন অফিসার কামরুজ্জামান জানান, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নতুন কোনো নির্দেশনা তিনি হাতে না পাওয়াতে আগের নিয়মে নিজেদের ও কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পরীক্ষায় নিয়োগ দিয়েছে। এ সময় শিক্ষক ও তার উপস্থিতিতে কীভাবে অবাধে নকল চলছে এমন প্রশ্ন করা হলে এর কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুস সালাম জানান, নকলমুক্ত শিক্ষা পরিবেশ তৈরিতে তিনি শার্শায় আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু মাঝেমধ্যে দেখা যাচ্ছে, যখন নকলের অভিযোগে কোনো শিক্ষককে সাজা দেওয়া হয় তখন কিছু সুবিধাবাদী মানুষ শিক্ষকদের পক্ষ নিয়ে আন্দোলনে নামে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

"