মাছের পচা পানিতে রাস্তা সয়লাব, অসহ্য দুর্ভোগ

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাছের আড়তের পুঁতিগন্ধ পানি পথচারীদের চলাচল এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। আড়তে ব?্যবহৃত পানি ফেলা হচ্ছে প্রধান সড়কে, সড়কের বিভিন্ন অংশে হাঁটু পানি জমে আছে। পানি জমে থাকায় সড়ক ভেঙে যাচ্ছে, মেরামতের পরও ঠিক রাখা যাচ্ছে না। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন তাদের চলাফেরা এবং এলাকায় বসবাস অসহ্য হয়ে উঠেছে। তবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫ এর নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মো. বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন আশার কথা। তার মতÑ এই সড়ক মেরামতে কাজ শুরু করা হচ্ছে। আড়তের পানি নিষ্কাশনের বিষয়টিও তখন দেখা হবে। আগামী জুন মাসের আগে কাজ শেষ হয়ে যাবে। তখন এ সমস্যা থাকবে না।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, চৌরাস্তা থেকে কুতুবখালী মোড় পর্যন্ত সড়কের বাঁ পাশের বিভিন্ন অংশে পানি জমে আছে। এ পাশে তিন লেইন সড়কের দুটি লেইনই ভেঙে একাকার। ইটবিছানো বাকি এক লেইন ধরে যানবাহন চলছে। সড়কের জলমগ্ন অংশে আড়তে মাছ নিয়ে আসা ট্রাক রেখে দেওয়া হয়েছে।

কুতুবখালী থেকে চৌরাস্তা আসার সড়কেও অনেক জায়গায় পানি জমে আছে। এখানেও সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে।

যাত্রাবাড়ী থানার সামনে থেকে ডেমরা সড়ক ধরে সিটি করপোরেশন কাঁচাবাজার পর্যন্ত সড়কের বড় অংশে পানি জমে আছে। সেখানে সড়কের এক লেইন ধরে যানবাহন চলছে, বাকি অংশে পানি।

মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী এলাকায় প্রায় ৭০০ আড়ত (যেখানে বসে মাছ বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা) আছে। মাছে পানি দেওয়ার জন্য পুরো বাজারে ড্রাম আছে প্রায় দুই হাজার। প্রতিটি ড্রামে ২০০ লিটার পানি ধরে। এ ছাড়া মাছের পচন রুখতে বড় আকারের বরফের চাঁই ব্যবহার করতে হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক শ ট্রাক বরফঢাকা মাছ নিয়ে প্রতিদিন এই বাজারে আসছে। অনেক ব্যবসায়ী আবার ট্রাকের ওপর পানিতে করে জ্যান্ত মাছ নিয়ে আসেন। যাত্রাবাড়ীর আড়তে আসার পর ট্রাকের পানি ছেড়ে দেওয়া হয় সড়কে।

আড়তের বিভিন্ন দোকানের ড্রাম থেকে পানি ছিটানো হচ্ছে মাছে। মাছ বিক্রি শেষে সেগুলো পরিষ্কার করতেও প্রচুর পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। সব পানি আড়তের ছোট ছোট নালা দিয়ে যাচ্ছে সড়কে।

মেসার্স নরসিংদী ফিশের মালিক মো. হারুন অর রশিদ জানান, মাছ তরতাজা রাখতে প্রচুর পানি ও বরফ ব্যবহার করতে হয় তাদের। নালা না থাকায় পানি সড়কে চলে যায়। এ কারণে বাজারের নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করার প্রয়োজনের কথা বললেন তিনি।

মাছ আড়তের ব্যবসায়ী মনসুর আহমদ বলেন, পানি আর বরফ ছাড়া আমাদের ব্যবসা অচল। কিন্তু ড্রেন না থাকায় পানি ঠিকমতো যেতে পারে না। আমাদেরও সমস্যা হয়। নিষ্কাশন পাইপ থাকলেও তা ঠিকমতো পরিষ্কার না করায় সড়কে পানি জমে যাচ্ছে। আড়তের ময়লা গিয়ে পাইপ ভরে গেছে। কিন্তু পাইপ তো পরিষ্কার করে না। এ জন্যই রাস্তায় পানি চলে আসে।

ধীরেন রাজবংশী নামের একজন ব্যবসায়ী জানান, রাস্তায় পানি জমে থাকায় আড়তদাররাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই বাজারে কাস্টমার কম আসে। বেচাকেনা কম হয়। এখানে পাইপ না দিয়া খোলা ড্রেন দিলে ভালো হবে। কারণ নালা পরিষ্কার করা যায় না। সø্যাব দিলে ঠিকমতো পরিষ্কার করা যাবে।

খোকন দাস নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, বছরখানেক আগে তারা একটি নালা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু বছর না ঘুরতেই সেটা বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া কুতুবখালী মোড়ে পানি যাওয়ার পথ আটকে দেওয়ায় সড়কে পানি জমে থাকে। পানি তো আর আটকে রাখা যায় না। আমরা ড্রেন করছি। কিন্তু কুতুবখালী মোড়ে পাম্পমালিক পানি যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ওই জায়গা তো আর আমাদের না।

সড়কে পানি জমে থাকায় এ পথে চলাচলকারী লোকজনের ভোগান্তি হচ্ছে বলে জানান কাজলার বাসিন্দা দিল মোহাম্মদ। সড়কে পানি জমে থাকায় এখান দিয়ে হাঁটা যায় না। রিকশা বা গাড়ি ছাড়া যাওয়ার কোনো উপায় নেই। গায়ে পানি ছিটে আসে।

যাত্রাবাড়ী-ডেমরা রুটের হিউম্যান হলার চালক মো. আসলাম বলেন, পেপার পত্রিকায় কত লিখল, কত ছবি তুইল্যা নিয়া গেল। সিটি করপোরেশনের লোকজনও তো দেখলাম কতবার আইলো। এই সমস্যার কোনো সমাধান তো অয় না। মাছ নিয়ে আসা ট্রাকগুলো সড়কে পানি ফেলে বলে অভিযোগ করেন দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর মিসির ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিক মিসির আলী। তিনি বলেন, প্রতিদিন ভোরে প্রায় এক শ ট্রাক থেকে রাস্তায় পানি ফেলে। বিকালের দিকে পানি শুকায়, পরের দিন সকালে এসে দেখি রাস্তা আবার নদী হয়ে গেছে।

সড়কে পানি জমে থাকায় একদিকে ক্রেতাদের সমস?্যা হয়, অন্যদিকে মালামাল ওঠানামা করা যায় না বলে জানালেন মেসার্স ফারুক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিক শেখ ফরিদ। তিনি জানালেন, গত এক বছর ধরে এই অবস্থা চলছে। এই রকম নোংরা জায়গায় কোনো ভদ্রলোক আসে না। বাধ্য হইয়া আমরা যাইয়া অর্ডার নিয়া আসি। মাল নিয়া আসি পরে আবার দিয়াও আসি।

"