উল্লাপাড়ায় সংখ্যালঘু দুই জেলে পরিবার হুমকিতে

নিরাপত্তা দিতে গ্রাম পুলিশ

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সন্ত্রাসীদের হুমকির মধ্যে থাকা দুইটি জেলে পরিবারের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। উপজেলার বাঙ্গালা ইউনিয়নের ধরইল গ্রামের জেলেপল্লীতে সন্ত্রাসী হামলার শিকার প্রফুল্ল চন্দ্র হলদার ও সুপদ চন্দ্র হলদারের পরিবারের লোকজন এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্ত্রাসীরা প্রতিদিনই তাদের নানা রকম হুমকি দিয়ে চলেছে। বর্তমানে পরিবার দুটির নিরাপত্তার জন্য রাতে গ্রাম পুলিশ দিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।

জানা গেছে, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ২১ নভেম্বরে এই দুই জেলে পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। গ্রামের প্রভাবশালী আয়নাল হক তালুকদার দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ ১০-১২ জন সন্ত্রাসী নিয়ে প্রফুল্ল ও সুপদ হলদারের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়ির মালিকানা দাবি করে লোকজনকে মারধর, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং বাড়ির প্রায় ৫০ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন গাছ কেটে নিয়ে যায়। তখন গ্রামবাসীর সহযোগিতায় কোনোরকম রক্ষা পান ওই পরিবার দুটির সদস্যরা।

প্রফুল্ল কুমার হলদার ও শ্রী সুপদ অভিযোগ করে জানান, তারা প্রায় ২৫ বছর আগে আয়নাল হকের জায়গা কিনে ওই গ্রামে বসবাস করে আসছেন। এত দিন পর হঠাৎ আয়নাল হক দাবি করছেন, বাড়িটি নাকি তার স্ত্রীর জায়গা। এ কারণে জবরদখলের ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে। পরিবারের লোকজনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তাদের দেশছাড়া করারও ভয় দেখানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে তারা উল্লাপাড়া উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও বাঙ্গালা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন।

আয়নাল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, প্রফুল্ল ও সুপদের বাড়ির জায়গা তার স্ত্রীর নামে রয়েছে। এ জন্য তিনি এই জায়গাটি উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান কৌশিক আহমেদ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আপাতত সংখ্যালঘু পরিবার দুটির নিরাপত্তার জন্য সেখানে গ্রাম পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সরকার জানান, অভিযোগকারী পরিবার দুটির বাড়ির জায়গার প্রকৃত মালিকানা খতিয়ে দেখতে বাঙ্গালা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"