জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

ভর্তির টাকা জমা দিতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

জবি প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষে ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ‘ডি’ ও ‘ই’ ইউনিটের মেধা তালিকায় থাকা বিষয় প্রাপ্তদের ভর্তির টাকা ব্যাংকে জমা দিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জবিতে ভর্তি হতে আসা নবীন শিক্ষার্থী এবং ভর্তি করাতে আসা অবিভাবকরা।

গত রবিবার ও গতকাল সোমবার সকাল থেকে ভর্তিচ্ছুদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে জবি ক্যাম্পাস। ভর্তিচ্ছুদের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে অগ্রণী ব্যাংক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় দেখা যায় উপচে পড়া ভীড়। ব্যাংকে টাকা জমা দেয়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে জবিতে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সংক্রান্ত কাজের জন্য রাখা হয়েছে দ্বিতীয় তলায় ব্যাংকের অফিস ফ্লোরের অন্য একটি বুথ।সরেজমিনে দেখা যায়, প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীদের ব্যাংকের সামনে লম্বা লাইন। নারী শিক্ষার্থীদের বিশাল লাইন এক দিকে ব্যাংকের সিড়ি বেয়ে তৃতীয় তলায় উঠেছে। অন্যদিকে ছাত্রদের দীর্ঘ লাইন ব্যাংক থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালায় বিজ্ঞান অনুষদের গণিত বিভাগে গিয়ে ঠেকেছে। নবাগত শিক্ষার্থীদের ভর্তির টাকা দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অনেক অবিভাবককে (মা-বাবা-ভাই-বোন)। আবার কখনো কখনো ব্যাংকে টাকা জমা দিতে দল বেধে আসছে ছাত্রলীগের কিছু কর্মী, যারা সাথে করে নিয়ে এসেছে তাদেরই কোনো না কোনো আত্মীয়।ব্যাংকের সামনে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি বুথে টাকা জমা নেয়া হচ্ছে। বুথগুলোর সামনে মোতায়ন রয়েছে বেশ কিছু পুলিশসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডির লোক জন।

কয়েকজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী এবং অবিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাঝে মাঝে ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে কিছু ছেলে এসে সামনে থেকে জায়গা নিচ্ছে এবং লাইনে থাকাদের সড়িয়ে দিয়ে নিজেদের পরিচিতদের টাকা জমা দিচ্ছে । কখনোবা হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও। আবার কেউ কেউ বলছে জায়গার সংকটে অসুবিধায় রয়েছেন তাদের মেয়েদের নিয়ে। আবার কারো অভিযোগ প্রশাসনিক ব্যার্থতার উপর। কেউ বলছেন অ্যানালগ ভর্তি কার্যক্রম বাড়িয়ে দিয়েছে ভোগান্তি।

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী লালন জানান, রবিবার সারাদিন দাড়িতে থেকে টাকা জমা দিতে না পেরে আজ দিচ্ছি ( সোমবার )।লাইনে দাঁড়িয়ে তিনতলায় অবস্থানরত এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এভাবে লাইনে দাঁড়াতে বেশ কষ্ট হলেও কিছু করার নেই। তবে যদি কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ বুথ রাখা হতো তাহলে বিষয়টা অনেক ভালো হতো।’ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হতে আসা নাবিলা বলেন, ‘সাভার থেকে সকাল সাড়ে ১১টায় এখানে এসেছি।প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানো।এখনো দুইতলার সিড়িতে, কখন নিচতলায় নেমে ব্যাংকের কাজ শেষ করতে পারবো বুঝতে পারছি না।’মাওয়া থেকে আসা মেহেদি বলেন, সকাল সাতটায় আসছি। লাইন দীর্ঘ হোক অসুবিধা নাই। তবে দুঃখের ব্যাপার ছাত্রলীগের কিছু বড় ভাই বারবার এসে লাইনে একজন একজন করে দাঁড় করাচ্ছে। এতে বারবার মনটা ভেঙে যাচ্ছে। এছাড়া আর কোনো সমস্যা মনে হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ আর ভর্তির ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ?‘আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। আগে দুটি বুথে টাকা জমা নেয়া হলেও এখন প্রথম বর্ষে ভর্তিকে কেন্দ্র করে তিনটি বুথ করা হয়েছে। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য করা হয়েছে আর একটি বুথ।’অ্যানালগ ব্যাংকিং হিসেবে যথেষ্ট দ্রুত কাজ হচ্ছে বলে দাবি জানান তিনি।এদিকে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির ব্যাপারে জানতে চাইলে জবি প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রথমে একটু ঝামেলা হয়েছিল, পরে প্রশাসনিকভাবে একটা সিস্টেমে নিয়ে এসেছি। এখন আর কোনো সমস্যা হবে না আশা করি।’

উল্লেখ্য, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেনীর ১ম মনোনয়ন প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে ‘এ’ ‘বি’ ‘ডি’ ‘ই’ ইউনিটের ২৯ নভেম্বর এবং ‘সি’ ইউনিটের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

"