খেলার মাঠ-পার্ক উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩১টি পার্ক ও খেলার মাঠকে ঢেলে সাজানোর বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে অযতœ ও অবহেলায় এসব পার্ক ও মাঠের অবস্থা খুব খারাপ। এই পরিস্থিতিতে এসব পার্ক ও মাঠের বর্তমান অবস্থা নিরূপণ, পৃথক নকশা প্রণয়ন, ব্যবহারের উপযোগী করতে করণীয় নিয়ে কাজ করতে ডিএসসিসি কয়েকটি স্থাপত্য নকশাকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিয়েছে।

চলতি বছরের আগস্ট থেকেই ওই প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ শুরু করেছে। ডিএসসিসির ৩১টি পার্ক ও খেলার মাঠ উন্নয়নের ওই প্রকল্পের নাম জল সবুজে ঢাকা। ডিএসসিসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাজধানীতে ডিএসসিসির আওতাধীন পাক ও খেলার মাঠগুলোর শুধুমাত্র নকশা প্রণয়ন নয়, বরং ওসব স্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের আচরণ বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে। মূলত উন্নয়ন কার্যক্রম কিভাবে টেকসই করা যাবে সে বিষয়ে কাজ হচ্ছে। ডিএসসিসির ১৯টি পার্ক ও ১২টি খেলার মাঠের উন্নয়নে কর্মরত নকশাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মতে কাগজে-কলমে পার্ক- খেলার মাঠ নাম থাকলেও বাস্তবে সেগুলোর আলাদা কোনো বৈশিষ্ট্য নেই। তবে কর্মরত প্রতিষ্ঠানগুলো পার্ক ও খেলার মাঠের একই বৈশিষ্ট্য রেখে নকশা করছে। মূলত তরুণ ও জ্যেষ্ঠ স্থপতিদের ভাবনার মিশেলেই পার্ক ও খেলার মাঠের নকশা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। যেসব শিক্ষার্থী খেলার মাঠ বা পার্ক নিয়ে গবেষণা বা থিসিস করেছে তাঁদের খুঁজে বের করে পার্ক ও খেলার মাঠ উন্নয়ন কাজে যুক্ত করা হয়েছে। তরুণ-জ্যেষ্ঠ মিলিয়ে মোট ৭০ জন স্থপতি ওই প্রকল্পে কাজ করছেন। এখন সীমানা দেয়াল না রেখে পার্ক ও মাঠগুলো উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যাতে পরিচ্ছন্ন সবুজ মাঠ থাকবে, পাশে হাঁটাপথ, বিশ্রামের জায়গা, ডিজিটাল গ্রন্থাগারসহ নানান সুবিধা রাখা হবে।

সূত্র জানায়, খেলার মাঠ ও পার্কগুলোর সাথে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি। কিন্তু দেয়াল দিয়ে ওগুলোকে সংরক্ষিত সম্পত্তি বানিয়ে ফেলা হয়েছে। আর ওসব স্থানে জনসমাগম না হলে অসামাজিক কাজ হওয়ার সুযোগ বেড়ে যায়। জনসমাগম বাড়ানো গেলে এলাকার লোকজনই ওসব স্থানের দেখভালে এগিয়ে আসবেন। ঢাকা দক্ষিণের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পার্ক ও খেলার মাঠ উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পার্ক উন্নয়নে ৩৬ কোটি ও খেলার মাঠ উন্নয়নে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তার মধ্যে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থ ১ কোটি আর বাকিটা প্রকল্প-সহায়তা।

সূত্র আরো জানায়, জল সবুজের ঢাকা প্রকল্পে যেসব মাঠের নকশা করা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে কলাবাগান মাঠ, বাসাবো মাঠ, লালবাগের দেলোয়ার হোসেন মাঠ, আমলিগোলা মাঠ, শহীদনগর মিনি স্টেডিয়াম, বালুরঘাট মাঠ ও শহীদ আবদুল আলিম মাঠ, বাবুবাজারের রহমতগঞ্জ মাঠ, বংশালের সামসাবাদ মাঠ, বাংলাদেশ মাঠ, গোলাপবাগ খেলার মাঠ এবং ধোলাইখালের সাদেক হোসেন খেলার মাঠ। আর পার্কের মধ্যে রয়েছে কারওয়ান বাজারের পান্থকুঞ্জ, গুলিস্তানের ওসমানি উদ্যান, যাত্রাবাড়ী পার্ক, শরাফতগঞ্জ পার্ক, গুলিস্তান পার্ক, জিন্দাবাহারের সিরাজউদ্দৌলা পার্ক, জগন্নাথ সাহা রোড পার্ক, হাজারীবাগ পার্ক, নবাবগঞ্জ পার্ক, বংশালের সিক্কাটুলি পার্ক, বংশাল পার্ক, মালিটোলা পার্ক, ওয়াটার ওয়ার্কস রোডের বশিরউদ্দিন পার্ক, সায়েদাবাদের আউটফল স্টাফ কোয়ার্টার শিশুপার্ক, মতিঝিল পার্ক, ধানমন্ডি ৩ নম্বর পার্ক, হাজারীবাগের গজমহল পার্ক, বকশীবাজার পার্ক ও রসুলবাগ শিশুপার্ক।

এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল জানান, অধিকাংশ পার্ক ও মাঠ ব্যবহারের অনুপযোগী। এগুলো সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করার জন্য কাজ চলছে। কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে।

কোথাও কোথাও বেদখল হয়ে গেছে। লোকজন যেতে চান না। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে পার্কগুলো ব্যবহারের উপযোগী করা এবং টেকসই করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কাজও শুরু হয়েছে।

"