শোকে স্তব্ধ কিউবা

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

বিদেশ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুতে সে দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কী হয়েছে তা যেন হৃদয়ঙ্গম করতে পারছেন না কিউবাবাসী। শনিবার থেকে টানা নয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে কিউবানরা। শোকের দ্বিতীয় দিন রোববারও সচরাচর উৎসবমুখর কিউবায় নিস্তব্ধতা বিরাজ করছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি ও রয়টার্স।

শুক্রবার রাতে কাস্ত্রোর মৃত্যুর কথা ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজধানী হাভানার রাস্তাগুলো নীরব হয়ে আছে। চারদিকে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি জাতীয় পতাকা টাঙানো হয়েছে। সাধারণ লোকজনের টাঙানো এসব পতাকার মধ্য দিয়েই জাতীয় অগ্রগতিতে ফিদেলের অবদান নীরবে স্মরণ করা হচ্ছে।

হাভানার বাদামবিক্রেতা ৪৪ বছর বয়সী লিসেত পেরেজ জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পোশাক পরেছেন। তার মাথায়ও পতাকা শোভা পাচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘সবকিছু শান্ত হয়ে আছে, কিছুটা অন্ধকারও, কারণ কিউবা মানেই সংগীতের মূর্ছনা, কিন্তু শোকের নয় দিন সংগীতের কোনো মূর্ছনা থাকবে না। শান্ত পরিবেশের মধ্যে দুঃখ মিশে আছে। ফিদেল ও বিপ্লব না থাকলে লোকজনের এই উন্নতি থাকত না, এখন তারা শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা।’

শোকের এই পরিবেশে ১৩ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক প্রতিবাদ মিছিল বন্ধ রেখেছে কিউবার সবচেয়ে পরিচিত ভিন্নমতাবলম্বী গোষ্ঠী। ‘লেডিস ইন হোয়াইট’ নামের এই গোষ্ঠীটি শোকের এই নয় দিনে উত্তেজনা সৃষ্টি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শোকের এই দিনগুলোতে অ্যালকোহল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং এ সময় কিউবাবাসী ও ফিদেলের সবচেয়ে প্রিয় বেসবলের সব পর্যায়ের খেলাও বন্ধ থাকবে।

সাফল্য সত্ত্বেও ফিদেলের একনায়কোচিত শাসন নিয়ে সমালোচনাও আছে। তার সময়ে বিরুদ্ধবাদীদের দমন ও রাজনৈতিক সমালোচনা সহ্য করা হতো না বলে অভিযোগ ভিন্নমতাবলম্বীদের। কমিউনিস্ট ও পুঁজিবাদী শিবিরে বিভক্ত গত শতকের বিশ্বে ঠা-া লড়াইয়ের এক প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন ফিদেল কাস্ত্রো। বিশ্ব পুঁজিবাদের মোড়ল যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগায় গড়ে তুলেছিলেন একটি কমিউনিস্ট রাষ্ট্র এবং তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধশতাব্দীর প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ করে দিয়েছেন।

ফিদেলের অবদান, তার ভাষণের অংশবিশেষ সম্প্রচার করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিরতিহীন শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে, তোপ দাগিয়ে তার প্রতি সম্মান জানানোর পরিকল্পনার কথা ঘোষিত হচ্ছে। কাস্ত্রোর শেষ ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখিয়ে শনিবার তার মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এখন দেহভস্ম একটি শবাধারে করে সারা দেশে ঘোরানো হবে। আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত গন্তব্য সান্তিয়াগো দ্য কিউবাতে নিয়ে যাওয়া হবে। ১৯৫০-এর দশকে পূর্বাঞ্চলীয় এই শহরটি থেকেই বিপ্লব শুরু করেছিলেন ফিদেল। এখানেই ৪ ডিসেম্বর তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শেষ হবে।

"