স্বাভাবিক হয়ে আসছে সাঁওতাল পল্লী

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

স্বাভাবিক হয়ে আসছে গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লী। গত শনিবার গোবিন্দগঞ্জ থানায় বাগদা সাহেবগঞ্জ আদিবাসী ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সদস্য থোমাস হেমব্রাম কর্তৃক আরেকটি মামলা দায়েরের পর কিছুটা স্বস্তিও ফিরে এসেছে। এখন সাঁওতালরা বলছে এটাই তাদের প্রকৃত মামলা। এই মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন তারা।

মামলাটি কেন এত দেরিতে করা হল। ঘটনার ২০ দিন পর। এ প্রসঙ্গে থোমাস হেমব্রম জানান, যেহেতু তাদের ৩ জন সাঁওতাল মারা গেছেন, অনেকে আহত হয়েছেন, উচ্ছেদকৃত গৃহহীন লোকদের পুনর্বাসনে ব্যস্ততা ছিল তাদের। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার আতংকের দিন কাটাতে হয়েছে। এ কারণে মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে। উল্লেখ্য এ নিয়ে একই ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রথম মামলাটিতে গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক কল্যান চক্রবর্তী বাদি হয়ে ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে সাড়ে ৩শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেন সাঁওতাল পল্লীর স্বপন মুরমু। এতে অজ্ঞাত পরিচয় ৬শ’ জনকে আসামী করা হয়। এই মামলা নিয়ে সাঁওতালদের মধ্যে বিতর্ক এবং চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা মনে করেন প্রকৃত দোষীদের আড়াল করতে এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এই সাজানো মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। সাঁওতাল নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তৃতীয় মামলাটি তাদের সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকেই দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে মাদারপুরের মিশন গীর্জা এলাকায় খোলা মাঠে মাদারপুর ও জয়পুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২শ’ সাঁওতাল পরিবারের অনেকেই ইতোপূর্বে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল তারা এখন নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। মিশন গীর্জা এলাকায় এখনও অবস্থান করছে ৩৫টির মত পরিবার। যাদের অধিকাংশই বহিরাগত সাঁওতাল বলে জানা গেছে। এরা মূলতঃ সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে জমি প্রাপ্তির আশায় এখানে এসে ওই এলাকায় বসতি গড়ে তুলেছিল। তারা এখন রুজি রোজগারের জন্য ধান কাটাসহ অন্যান্য কাজে ফিরতে শুরু করেছে। এছাড়া সাঁওতাল পরিবারদের যে সব ছেলে মেয়েরা ঘোড়াঘাট কলেজে, গোবিন্দগঞ্জ কলেজে ও সরকারি প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়া করতো স্কুল-কলেজে যেতে শুরু করেছে। এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি দল গত শনিবার বিকেলে মাদারপুর ও জয়পুরপাড়ার সাঁওতাল পল্লী পরিদর্শন করেন।

"