দিয়াজের অনুসারীদের ডাকা অবরোধে অচল চবি

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

চবি প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন বাতিল করে আবার ময়নাতদন্ত করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন দিয়াজের অনুসারীরা।

গতকাল রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অবরোধে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শাটল ট্রেন ও শিক্ষক বহনকারী কোনো বাস চলাচল করেনি। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে চবি। বিভিন্ন বিভাগের স্থগিত করা হয়েছে ক্লাস ও পরীক্ষা। এ প্রসঙ্গে চবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও দিয়াজের অনুসারী মো. মামুন বলেন, ‘দিয়াজ হত্যার সুষ্ঠু তদন্তসহ পাঁচ দফা দাবিতে সচেতন সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবরোধ ডেকেছেন। আমরা এ অবরোধে সংহতি জানিয়েছি। আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে এ অবরোধ কর্মসূচি চলবে।’

ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. শাহাবুদ্দীন বলেন, ‘অবরোধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে কোনো শাটল ট্রেন ছেড়ে যায়নি। নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কবে থেকে ট্রেন চলবে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিলে শাটল ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে ছাড়বে।’ অবরোধ প্রসঙ্গ নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কে বা কারা এ আন্দোলন করছে আমরা তা জানি না। তবে তারা যদি আমাদের কাছে এসে লিখিত অভিযোগ করে তাহলে আমরা সে বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেব। আমরা শিগগিরই যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটল ট্রেন ও শিক্ষক বাস চলাচল করে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে দাবি করে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দীন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি এখনো শান্ত আছে। কেউ যদি কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে চায় তবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

অবরোধকারীদের ধরতে কোনো অভিযান চালানো হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ রকম কোনো নির্দেশনা আমাদের কাছে নেই। তবে কেউ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি অস্থিতিকর করার চেষ্টা করে তবে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’

উল্লেখ্য, গত ২০ নভেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকার নিজ বাসা থেকে উদ্ধার কার হয় দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর ঝুলন্ত মরদেহ। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে দিয়াজের পরিবারের দাবি পরিকল্পিতভাবেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে ২২ নভেম্বর দিয়াজের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ। প্রতিবেদনে দিয়াজ আত্মহত্যা করেছে বলে উল্লেখ করে ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক। এ ঘটনার পর গত ২৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন, চবি ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপুসহ মোট ১০ জনকে আসামি করে আদালতে হত্যা মামলা করে দিয়াজের মা জাহেদা আমেন চৌধুরী। চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিবলু কুমার দের আদালতে মামলাটি করলে শুনানি শেষে আদালত সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে ওইদিন সংবাদ সম্মেলনে দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে নগরীর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তার পরিবার।

"