এতদিন মিলন হত্যার বিচার চেয়েছি, আর চাই না

আলোচনা সভায় মা সেলিনা আক্তার

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

নব্বইয়ের গণ-অভুত্থানের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনের মা সেলিনা আক্তার বলেছেন, ‘এতদিন মিলন হত্যার বিচার চেয়েছি, এখন আর চাই না। সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলে আগে বলতাম, মিলন হত্যার বিচার চাই। কিন্তু আজ বলব, বিচার চাই না। কারণ ২৬ বছর ধরে বিচার চেয়ে এসেছি। কিন্তু মিলনের খুনি স্বৈরাচার এরশাদের বিচার হয়নি। তাই আজো আর বিচার চাই না।’

গতকাল রোববার শহীদ ডা. মিলনের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি পরিচালনা করেন কামরুল হাসান জায়গীরদার। এর আগে শহীদ মিলন বেদি ও তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। সভায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ১৯৯০ সালের পর গণতন্ত্রের অগ্রগতি হয়েছে। স্বৈরশাসকের পতনের পর রাজনীতি-অর্থনীতিসহ সব দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু জঙ্গি হামলা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর হামলা এ গণতন্ত্রকে ব্যাহত করেছে। ডা. মিলন যার জন্য জীবন দিয়েছেন, সেই গণতন্ত্র আজ থমকে গেছে বলে মন্তব্য করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের এই নেতা।

আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ স ম আরেফিন সিদ্দিক বলেন, নূর হোসেনের মতো ডা. মিলনও ছিলেন স্বৈরশাসকবিরোধী আন্দোলনের সৈনিক। নূর হোসেনের স্লোগান ছিল ‘স্বৈরতন্ত্র নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। নূর হোসেনের এই স্লোগানকে তিনি বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি আরো বলেন, মিলনের স্বপ্ন ছিল দেশে গণতন্ত্র আসবে। দেশের সাধারণ মানুষ নিপীড়িত থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু তার স্বপ্ন কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান খান বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে আদর্শের রাজনীতি নেই। দেশে চলছে দোষারোপের রাজনীতি। কোনো ঘটনা ঘটলে একদল অন্যদলের ওপর দোষ চাপায়। তাই আজ আমরা ডা. মিলনকে গভীরভাবে স্মরণ করছি। দেশের অর্থনীতি ও চিকিৎসা খাতকে এগিয়ে নিতে সব দলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শহীদ ডা. মিলন সংসদের সভাপতি ও প্রতিদিনের সংবাদের সম্পাদক আবু সাঈদ খান।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান এ দেশের দুটি শত্রু বিদ্যমান। প্রথমত হচ্ছে, যারা দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল সেসব যুদ্ধাপরাধী। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, চিহ্নিত স্বৈরাচার। এখন যুদ্ধাপরাধীদের কিছু বিচার হয়েছে এবং চলছে। কিন্তু নব্বইয়ের পরাজিত স্বৈরশাসকদের বিচার হয়নি। এ স্বৈরশাসকদেরও বিচার করতে হবে।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ডা.: মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, ডা. মুশতাক হোসেন, ডা. আহমেদ আবু সালেহ এবং কমিউনিস্ট পার্টির নেতা কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন।

এর আগে গতকাল রোববার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে শহীদ মিলনের সমাধিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শহীদ মিলনের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, বিএম মোজাম্মেল হক, এনামুল হক শামীম, শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে ডা. মিলনের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার মা সেলিনা আখতার। এ ছাড়াও বিএনপি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গণফোরাম, সাম্যবাদী দল, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, ছাত্রঐক্য ফোরাম, মিলনের সহপাঠীসহ বিভিন্ন সংগঠন মিলনের সমাধিতে ফুল দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক ডা. শামসুল আলম খান মিলন ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে স্বৈরশাসক এরশাদের লেলিয়ে দেওয়া খুনিদের গুলিতে শহীদ হন।

"