ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে কনটেইনার পরিবহন কমেছে

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ উন্নয়নের ফলে যাতায়াত সময় কমেছে। কিন্তু তারপরও রেলপথে কনটেইনার পরিবহন না বেড়ে বরং আগের চেয়ে কমে গেছে।

চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে রেলপথে কনটেইনার পরিবহনে প্রবৃদ্ধি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমেছে। সেজন্য ব্যবসায়ী মহল রেল কর্তৃপক্ষের অযোগ্যতাকে দায়ি করছে। কারণ কেনটেইনার পরিবহনে রেলের পরিচালন সময় এক-তৃতীয়াংশ কমার তথ্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরছে না। পাশাপাশি সড়কপথে এখন ৮-৯ ঘণ্টায় একটি কনটেইনার গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে। মূলত সময় বাঁচানোর জন্যই ব্যবসায়ীরা সড়কপথ বেছে নিচ্ছে। যদিও সড়কপথে পণ্য পরিবহন খরচ বেশি। রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বন্দরের ৮১ হাজার ৯৩০টি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডিতে পরিবহন করা হয়। যা রেলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিবহন। কিন্তু রেলের ইঞ্জিন সঙ্কটের কারণে কনটেইনার পরিবহনের হার কমতে থাকে। ফলে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে তা কমে ৭৩ হাজার ৪৭৮ কনটেইনারে নেমে আসে। তবে ইঞ্জিন এবং ওয়াগন সঙ্কট কাটলেও ২০০৯-১০ থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে গড়ে প্রতি অর্থবছরে ৬৫ হাজার করে কনটেইনার পরিবহন হয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ নিয়ে পূর্বাঞ্চল গঠিত) ২০ হাজার ৫৫৪টি কনটেইনার পরিবহন করে। আর গতবছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পূর্বাঞ্চলে ২১ হাজার ৩৪৩টি কনটেইনার পরিবহন হয়। সেই হিসাবে গতবছরের তুলনায় চলতি বছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে ৭৮৯টি কনটেইনার কম পরিবহন হয়েছে।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের চিনকি আস্তানা থেকে কুমিল্লার লাকসাম এবং আখাউড়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত রেললাইন ডাবল হয়েছে। তাতে কনটেইনারবাহী ট্রেনের গন্তব্যে পৌঁছার সময় (পরিচালন সময়) ২৩-২৪ ঘণ্টা থেকে ১৫-১৬ ঘণ্টায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ পণ্য পরিবহনের সময় ৮ ঘণ্টা বা এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। তারপরও রেলপথে কনটেইনার পরিবহন কমে গেছে। যদিও গতবছরে ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে গন্তব্যে কনটেইনার পৌঁছাতে সময় লাগত ২৩-২৪ ঘণ্টা। কিন্তু চলতি বছর তা কমে নেমে আসে ১৬-১৭ ঘণ্টায়। ১ নভেম্বর আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার ডাবল লেনের কাজ শুরু হয়েছে। সেটি শেষ হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ পুরোপুরি ডাবল লেনে উন্নীত হবে। তাতে ট্রেনের পরিচালন সময় আরো কমে আসবে।

সূত্র আরো জানায়, সড়কপথে কনটেইনার পরিবহন বাড়লে ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনের রাস্তা টেকানো যাবে না। ওই ব্যাপারে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সাথে রেলপথ মন্ত্রণালয় সমন্বয় বৈঠক করবে। ওই বৈঠকে সড়কপথে কনটেইনার পরিবহনের ব্যাপারে কিছু বিধিনিষেধ আসতে পারে। তারপর আমদানি ও রপ্তানিকারকেরা রেলপথে কনটেইনার পরিবহন করলে প্রবৃদ্ধি ও আয় দুটোই বাড়বে। তাছাড়া কনটেইনার পরিবহনের জন্য কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ রেলওয়ে নামে আলাদা একটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই তার কার্যক্রম শুরু হবে। কারণ কনটেইনার পরিবহন বাড়ানোর জন্য রেলের যথেষ্ট সামর্থ্য আছে। তবে সেই বিষয়ে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ থাকতে হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকেও ভূমিকা রাখতে হবে।

এ প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফিরোজ সালাহ উদ্দিন কনটেইনার পরিবহনে প্রবৃদ্ধি কমার কথা স্বীকার করে জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন হয়ে যাওয়ায় অনেকে এখন সড়কপথে পণ্য পরিবহন করছে। রেলপথে কনটেইনার পরিবহন বাড়ানোর জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সাথে রেল কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ হচ্ছে। যাতে রেলপথে কনটেইনার পরিবহন ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশে উন্নীত করা যায়।

"