আজ ধুলাউড়ি গণহত্যা দিবস

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

আজ সাঁথিয়ার ধুলাউড়ি গণহত্যা দিবস। বছর পরিক্রমায় দিনটি প্রতিবার ফিরে আসলেই শোকে মুহ্যমান হয়ে ওঠে ওই এলাকার মানুষ। পাবনা জেলার সাঁথিয়াবাসীর জন্য বেদনা বিধুর স্মৃতি জাগানিয়া দিন। ১৯৭১ সালের ২৭ শে নভেম্বরে পাক হানাদার বাহিনী ধুলাউড়ীতে মেতে ওঠে নারকীয় হত্যাযজ্ঞে।

একাত্তরে এই সময় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় দুই’শ মুক্তিযোদ্ধা এসে অবস্থান নেয় সাঁথিয়া থানার ধুলাউড়ি গ্রামে। একই গ্রামে সকলের অবস্থান করা নিরাপদ নয় ভেবে মুক্তিযোদ্ধারা ভাগাভাগি করে পার্শবর্তী বিল সলঙ্গী, রামকান্তপুর, পাইকশা, নাড়িয়াগোদাই প্রভৃতি গ্রামে রাত যাপনের ব্যবস্থা করে। একটানা যুদ্ধ করে সবাই ক্লান্ত ছিলেন তখন। ধুলাউড়ি গ্রামটি সাঁথিয়া থানা সদর থেকে প্রায় ৮/১০ কিলোমিটার ভেতরে। মুক্তিযোদ্ধারা গ্রামটি নিরাপদ ভেবেছিল। এর কিছুদিন আগে (সেপ্টেম্বর মাসে) মুক্তিযোদ্ধারা সাঁথিয়া হাইস্কুলে অবস্থিত রাজাকার ক্যাম্পে আক্রমন করে ৯ জন রাজাকার হত্যা করে এবং তাদের অস্ত্রলুট করে নেয়। এতে দালালরা খুবই তৎপর হয়ে উঠে।

২৭ শে নভেম্বর। রাত আনুমানিক ৩ টা। চারদিকে গা ছমছম করা নিরবতা আর ভুতুরে অন্ধকার। হঠাৎ করেই নিরবতা ভেঙ্গে গর্জে ওঠে গুলির শব্দ। দালালের সহায়তায় পাঁচশ পাকসেনা গ্রামটি ঘিরে ফেলে। পার্শ্ববতী বেড়া থানার জোড়দহ গ্রামের আসাদ নামের একজন পাকি দালাল ছিল এই নির্মম হত্যা কান্ডের সহযোগি। মুক্তিযোদ্ধারাও কোনো ধরণের প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগ পাননি। ভোররাত থেকে শুরু হয় তান্ডব লীলা। চলতে থাকে অগ্নিকান্ড, হত্যা, লুটপাট ও ধর্ষণের মহোৎসব। অপ্রস্তত মুক্তিযোদ্ধারা ও ঘুমন্ত গ্রামবাসী হতবিহবল হয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধাসহ বহু গ্রামবাসীকে ঘরের মধ্যে বন্দি করে আগুন দেয়া হয়। পরে ইচ্ছামতি নদীর পারে ব্রাশ ফায়ারে নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করা হয়। ওইদিনের হত্যাকান্ডে ৮ মুক্তিযোদ্ধা সহ ১১ জনের লাশ সনাক্ত করা যায়।

এরা হচ্ছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা খবির উদ্দিন(পদ্মবিলা), আখতার হোসেন(ইসলামপুর ) দ্বারা হোসেন( রঘুনাথপুর), চাঁদ বিশ্বাস ( রঘুনাথপুর), মহসীন আলী ( কাজিপুর), শাহজাহান আলী ( চরতাঁরাপুর), মকছেদ আলী (বামুনডাঙ্গা),মুসলিম উদ্দিন ( চরতাঁরাপুর)। হত্যার শিকার গ্রামবাসীরা হচ্ছেন, আবুল কাশেম ফকির , ডাঃ আঃ আওয়াল, জহুরুল ইসলাম ফকির, আঃ রশিদ ফকির, আঃ গফুর, আঃ সামাদ বান্যে, নইম উদ্দিন খলিফা, ওয়াজেদ আলী, কোবাদ বিশ্বাস, আখতার হোসেন তালুকদার, মাহখনবি প্রমুখ।

হত্যা যজ্ঞ শেষে পাকসেনারা ফেরার পথে নাড়িয়াগোদাই, ধোপাদহ, হলুদঘর, অগ্নি সংযোগ করতে করতে সাঁথিয়া থানায় আসে। এ সময় রুদ্রগাতি গ্রামের আঃ ছামাদকে থানার সামনে বেলগাছে ঝুলিয়ে বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে। পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত ৮ মুক্তিযোদ্ধাকে ধুলাউড়ি ফকির পাড়া প্রাইমারী স্কুলের সামনে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়। ব্রাশ ফায়ারে নিহত গ্রামবাসীর লাশও সেখানে মাটি চাপা দেয়া হয়। সেটি এখন গনকবর হিসাবে পরিচিত। ওই গণকবরে স্থানীয়রা একটি স্মৃতি স্তম্ভ নির্মানের দাবি করে আসছেন দীর্ঘদিন হল। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

 

"