যোগ্য শিক্ষক সংকটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রমে এগিয়ে থাকলেও যোগ্য শিক্ষকের অভাব রয়েছে। একইসঙ্গে রয়েছে যোগ্য ভিসির সংকট। রয়েছে প্রশাসনিক লোকবলের অভাব। এসব সমস্যা জর্জরিত হয়ে আছে দেশের এক তৃতীয়াংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি অনুমোদন থাকলেও ৮৬টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। সাতটিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি। একটির অনুমোদিত ঠিকানা নেই, আরেকটিতে রয়েছে ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে সমস?্যা। এর মধ্যে ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নেই; ৭২টিতে উপ-উপাচার্য এবং ৫০টিতে নেই কোষাধ্যক্ষ। প্রশাসনের শীর্ষ তিন পদই ফাঁকা রেখে সনদ দিয়ে যাচ্ছে- এমন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ?্যা ২৮টি। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের কাজ চালাচ্ছেন উপ-উপাচার্য। যাদের উপ-উপাচার্য নেই, তাদের প্রশাসন দেখছেন কোষাধ্যক্ষ। তিনটি পদই ফাঁকা রয়েছে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে, তার মধ?্যে ১৮টির সনদ সম্প্রতি অবৈধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি শেখ কবীর হোসেন জানান, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদের জন?্য সরকার নির্ধারিত যোগ্যতা অনুযায়ী লোক না পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। এসব পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন হালনাগাদের দাবি ও জানা তিনি।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ‘মূল্যায়নে’ একটি কমিটি কাজ করছে জানিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগে জোর দিতে বলেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সম্প্রতি ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অবৈধ ঘোষণা করেছে। অবৈধ ঘোষনার কারন হচ্ছে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ না থাকা। আবার কিছু কিছু শিক্ষক দুই-তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্ট টাইম শিক্ষকতা করেন, ভিসি হতে আগ্রহী হন না। বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি শেখ কবীর হোসেন বলেন, শীর্ষ পদগুলোতে লোক নিয়োগ দিতে সমিতির পক্ষ থেকে বলা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উপযুক্ত লোক খুঁজে পায় না। একটি পদের জন্য তিনজন উপযুক্ত লোক পাওয়া মুশকিল।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডকে উপাচার্য পদে নিয়োগের জন্য তিনজনের প্যানেল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাতে হয়। এই তিনজনের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেন। আর উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাতে হয়।

শীর্ষ তিন পদে লোক নিয়োগের পদ্ধতি সহজ করার দাবি জানিয়ে কবীর হোসেন বলেন, ‘আইনটিকে শিথিল করে কীভাবে যোগ্য লোক নিয়োগ দেয়া যায় সে বিষয়ে চিন্তা করতে হবে। কারণ প্রোপার তিনজনের নাম দেওয়াটা খুবই কঠিন কাজ।’

যোগ্য শিক্ষক পাওয়া গেলেও তাদের মধ্যে অনেকে উপাচার্য বা উপ-উপাচার্য হতে চান না বলে জানান শেখ কবীর।

ইউজিসিকে কোনো আদেশ জারি বা বিজ্ঞপ্তি প্রচারের আরেকটু চিন্তা করার অনুরোধ জানান ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কবীর হোসেন। তিনি আরো বলেন, তা না হলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শীর্ষ পদগুলো ফাঁকা থাকাকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, ‘এটা একটা বড় সমস্যা। ওই পদেই লোক পাচ্ছে না- তার মানে হল শিক্ষক সংকটটা কত তীব্র।’ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেশিরভাগই খন্ডকালীন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আইন অনুযায়ী স্থায়ী শিক্ষক থাকার কথা। তবে চাইলেই তো আর হবে না, পেতেও হবে। এটাও একটা ব্যাপার, বাস্তবতা আমাদের মেনে চলতে হবে।”

সংকট কাটানোর উদ?েদ্যগ জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘স্থায়ী কমিটি থেকে একটা কমিটি করে দেওয়া হয়েছে আগের আইন ঠিক আছে কি না- তা মূল্যায়ন করছে। এটা করতে তাদের (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি) সঙ্গেও কথা বলবে। তারাও তাদের কথা বলবেন, প্রস্তাব দেবেন। আরও কিছু বিষয়ে তারা মনে করেন আইন সংশোধন দরকার আছে। তারা সেগুলো জানালে আমরা বিবেচনার সুযোগ পাব।’ মুনাফার মনোভাব ছেড়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যোগ্য লোক নিয়োগ ও যোগ??্য লোক তৈরির বিষয়ে মনোযোগী হতে বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

 

 

"