হোসনি দালানে বোমা হামলা

এক বছরেও শুরু হয়নি জঙ্গিদের বিচার

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ADVERTISEMENT

পুরান ঢাকার হোসনি দালানে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলার এক বছর পার হলেও এখনও বিচার শুরু হয়নি। কবে নাগাদ বিচার শুরু হবে তাও নিশ্চিত নয়। সূত্র জানায়, চার্জশিট দাখিল করার পর এরই মধ্যে প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেলেও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা এ মামলার বিচার কাজ আটকে আছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায়।

মামলায় গ্রেফতার হওয়া চার্জশিটভুক্ত ১০ জঙ্গির মধ্যে এরই মধ্যে চারজন জামিনে বেরিয়ে গেছে, যা রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর মধ্যরাতে হোসেনী দালানে বোমা হামলা চালিয়েছিল জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গিরা। এতে ঘটনার দিন একজন, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজনের মৃত্যু হয়। আহত হন শতাধিকেরও বেশি মানুষ। ওই ঘটনায় চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। পরে মামলাটির তদন্তভার ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। সেই মামলায় ১৩ জঙ্গিকে অভিযুক্ত করে চলতি বছরের ২০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলো সাঈদ ওরফে হিরন ওরফে কামাল, জাহিদ হাসান ওরফে রানা ওরফে মোসায়েব, শাহাদাৎ ওরফে আলবানি ওরফে মাহফুজ ওরফে হোজ্জা, আব্দুল বাকি ওরফে আলাউদ্দিন ওরফে নোমান, আরমান, রুবেল ইসলাম ওরফে সজীব, কবির হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আশিক, মাসুদ রানা, আহসান উল্লাহ মাহমুদ, আবু সাইদ সোলায়মান ওরফে সালমান, চান মিয়া, ওমর ফারুক ওরফে মানিক ও শাহজালাল।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, শিয়া সম্প্রদায়ের বড় সমাবেশস্থলে বেশিসংখ্যক মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল ওই জঙ্গিদের। তবে সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপনসহ নিরাপত্তার কিছু উদ্যোগের কারণে জঙ্গিরা পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তবে এই হামলায় নব্য জেএমবির ১৩ জঙ্গি অংশ নেয়। সংগঠনটির সামরিক শাখার কমান্ডার শাহাদাৎ ওরফে আলবানি ওরফে মাহফুজ ওরফে হোজ্জা ছিলেন হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী। এই পরিকল্পনাকারীসহ ৩ জন ইতিমধ্যে ডিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। বাকি ১০ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এদের মধ্যে ৫ জন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

গত ২৭ জানুয়ারি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় জাহিদ হাসান ওরফে রানা ওরফে মোসায়েব। পরের দিন জবানবন্দি দেয় আরমান। এর আগে রুবেল ইসলাম ওরফে সজীব, মাসুদ রানা ও কবির হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আশিক আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়। জবানবন্দিতে তারা জানায়, মোহাম্মদপুরের বিহারি ক্যাম্পেও শিয়াদের ওপর হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

এ জন্য প্রথম তারা মোহাম্মদপুরে বাসা ভাড়া নিয়েছিল। পরে হোসেনী দালানে হামলার পরিকল্পনা করে তড়িঘড়ি করে কামাঙ্গীরচরে বাসা ভাড়া নেয়। হোসেনী দালানের কবরস্থান থেকে মাহফুজ ওরফে আলবানি ৫টি গ্রেনেড বোমা ছুরে মারে। এ সময় তার সঙ্গে রাশেদ ওরফে আশিক উপস্থিত ছিল। এই ৩ জন আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতির পর পীর ও

মাজারের অনুসারীদের হত্যায়ও অংশ নিয়েছিল। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ডাকাতি ও আটজনকে হত্যার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীও ছিলেন হোজ্জা। সূত্র জানায়, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে হাজারীবাগে ডিবির সঙ্গে আরেক বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় জেএমবির দুই কমান্ডার হিরন ওরফে কামাল ও আলাউদ্দিন ওরফে নোমান। এর আগে গত বছরের ২৫ নভেম্বর গাবতলীতে ডিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় মাহফুজ ওরফে হোজ্জা। এই ৩ জনই হোসেনী দালানে বোমা হামলা, গাবতলী ও আশুলিয়ায় পুলিশ সদস্য হত্যায় জড়িত। এ বিষয়ে মামলাটির তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা ও ডিবির উপকমিশনার (দিক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, আমরা অল্প সময়ের মধ্যে মামলাটি তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছি। তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতার ১০ জনের মধ্যে কেউ হামলার পরিকল্পনা করে, কেউ গ্রেনেড সরবরাহ করে, কেউ বা বাসা ভাড়া করে সহায়তা করেছেন। তবে মূল হত্যায় যে পাঁচজন জড়িত ছিল তাদেরই জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। জবানবন্দিতে ঘটনার ব্যাপারে পুরো জানা গেছে।

 

 

"