হুঁশ ফিরেছে হাতির বশ মানানো হবে

নাম রাখা হয়েছে বঙ্গ বাহাদুর

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৬, ০০:০০

জামালপুর প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে সংজ্ঞাহীন করার ১০ ঘণ্টা পর উঠে দাঁড়িয়েছে দেড় মাস পর ধরা পড়া বুনো হাতিটি। এখন অপেক্ষা মাহুত দিয়ে বশে আনার। তারপরই জামালপুর থেকে হাতিটিকে গাজীপুর সাফারি পার্কে অথবা শেরপুরের গজনির বনভূমিতে ছেড়ে দেওয়া হবে।

গত বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে কামারাবাদ ইউনিয়নের কয়রা গ্রামে ট্রাংকুলাইজার বন্দুক থেকে স্টিল ডার্ট ছুড়ে অচেতন করা হয় হাতিটিকে। এরপর কয়েকশ মানুষ পাঁচ টনের বেশি ওজনের পুরুষ হাতিটিকে জলাশয় থেকে লোকালয়ে টেনে তোলে। তারপর অচেতন হাতির চিকিৎসা শুরু হয়। শেষে গতকাল শুক্রবার প্রথম প্রহরে হাতিটি শেকল পায়ে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতে পেরেছে বলে জানিয়েছেন বন অধিদফতরের উদ্ধারকারী দলের ভেটেরিনারি সার্জন সৈয়দ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ভারতীয় হাতিটির জীবন নিয়ে যে শঙ্কা ছিল তা ‘আর নেই’। অচেতন হওয়ার দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্য সাধারণত হাতির হুঁশ ফেরে; তবে এটি বেশ দুর্বল থাকায় দেরি হয়েছে। ১০ ঘণ্টা পর এখন পুরোপুরি দাঁড়াতে পেরেছে। হাতিটিকে কলাগাছ ও অন্যান্য খাবার দেওয়ায় শারীরিক শক্তি ফিরতে শুরু করেছে বলে জানান এ চিকিৎসক।

সরিষাবাড়ীর প্রত্যন্ত এ গ্রামে ট্রাক কিংবা ক্রেন যাওয়ার মতো অবস্থা নেই; সেক্ষেত্রে হাতিটিকে নিরাপদ জায়গা দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে সরাতে হবে বলে জানান তিনি। এখানে ৫-৭ দিন আটকে রেখে খাবার দিয়ে, প্রশিক্ষণ দিয়ে বশ মানাতে হবে। এ গ্রাম থেকে গাড়ি চলাচলের রাস্তা প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। এখন বুনো হাতটিকে বশে আনা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আপাতত হাতিটিকে বেঁধে রেখে পরে মাহুতের সাহায্যে বশে আনার চেষ্টা হবে বলে জানান তিনি। হাতির তিনটি পা বড় গাছের সঙ্গে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। মাহুত আসার পর আরো দুটি হাতির সঙ্গে এটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একটা সময় আসবে, যখন মাহুত ডানে যেতে বললে ডানে যাবে, বাঁয়ে বললে বাঁয়ে যাবে। এরপর অন্য দুই হাতির পায়ের সঙ্গে বেঁধে হাটিয়ে নেওয়া হবে অন্তত এক কিলোমিটার। ততদিন পর্যন্ত আটক থাকবে সে। না হলে এখান থেকে হাতি সরানো যাবে না।

এই চিকিৎসক জানান, বশ মানানো গেলে মাহুতের সাহায্যে হাতিটিকে রাস্তার কাছাকাছি নেওয়া হবে। তারপর পরিবহনে করে ঢাকার সাফারি পার্ক কিংবা শেরপুরে গজনিতে ছেড়ে দেওয়া হবে। বন কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, হাতিটি উদ্ধারের পর বাংলাদেশের কোনো সাফারি পার্কে রাখা হবে। পরে গারো পাহাড়ের বনে ছেড়ে দেওয়া হবে, যাতে ভারত থেকে আসা হাতির পালের সঙ্গে এটি চলে যেতে পারে।

বন্যার পানিতে ভেসে গত ২৬ জুন ভারতের আসাম থেকে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্তে আসে বুনো হাতিটি।

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে হাতিটি ছিল ৯ জুলাই পর্যন্ত। এরপর ১০ থেকে ১৩ জুলাই গাইবান্ধায়, ১৪-১৬ জুলাই জামালপুরে, ১৭-১৮ জুলাই বগুড়ায়, ১৯-৩০ জুলাই সিরাজগঞ্জে এবং তারপর ৩১ জুলাই থেকে আবার জামালপুরের চরে চড়ে বেড়ায় সে। দেড় মাসের বেশি সময় ধরে নদী ও স্থলপথ মিলিয়ে চার জেলার কয়েকশ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ও খাদ্যের অভাবে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে হাতিটি।

গত ৩ আগস্ট ভারতীয় একটি সরকারি দল এসে উদ্ধার কাজে হাত লাগায়। কিন্তু তাদের তিন কৌশল ব্যর্থ হলে ভারতীয় কর্মকর্তাদের দলটি আসামে ফিরে যায়। খাবারের প্রলোভনে সাড়া না দেওয়ায় বুনো হাতিটিকে বশে আনতে পোষা একটি মাদী হাতিও আনা হয়েছিল। কিন্তু পোষা হাতিটিকে উল্টো তাড়িয়ে দেয় বুনো হাতিটি।

গত বুধবার প্রথমে ‘প্লাস্টিক ডার্ট’ ছুড়লে তা হাতির গায়ে লেগে বেঁকে যায়। এরপর বৃহস্পতিবার ‘মেটাল ডার্ট’ ছুড়ে হাতিটি অচেতন করা হয়।

"