রংপুরে মোটা চালের দাম বস্তাপ্রতি ৩০০ টাকা বেড়েছে

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৬, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

এক মাসের ব্যবধানে রংপুরে মোটা চালের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ২৫০-৩০০ টাকা। বড় বড় ব্যবসায়ী ও মিলাররা ধান ও চাল মজুত রেখে বন্যার অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

গতকাল শুক্রবার পুরনো শহর মাহিগঞ্জ ও সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার ‘সিটি বাজারে’ মোটা চাল বিক্রি হয় বস্তাপ্রতি (৮৪ কেজি) এক হাজার ৬০০ টাকা থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা। এক মাস আগে একই ধরনের চাল বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৩০০ টাকা থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। আর চিকন চাল প্রতিবস্তার দাম ছিল এক হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা। সে একই রকমের চাল গতকাল বিক্রি হয় প্রতি বস্তা ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত।

মাহিগঞ্জের চাল ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম ও সিপলু মিয়া জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে গত একমাস থেকে চলছে বন্যা। বন্যাদুর্গত এলাকায় চালের চাহিদা বেড়ে গেছে। আর হাটবাজারে ধানের সরবরাহ কম। যদিও বা পাওয়া যায় তাতে দাম অনেক বেশি। এ কারণে চালের দাম বেশি। তবে এ অবস্থা কয়েক দিনের মধ্যেই কেটে যাবে বলেও ধারণা করছেন ওই দুই ব্যবসায়ী। এ ব্যাপারে রংপুর চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কাশেম বলেন, বড় বড় ব্যবসায়ী ও গৃহস্থরা না ছাড়ায় বাজারে ধানের সরবরাহ কমে গেছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা দেখা দেওয়ায় সেখানে চালের সরবরাহ বেড়ে গেছে। আর এ কারণে চালের দামও কিছুটা বেড়েছে।

পীরগাছার পারুল এলাকার বড় গৃহস্থ হাফিজ উদ্দিন ও কল্যাণী এলাকার সরোয়ার হোসেন জানান, এখন মোটা ধান মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা থেকে সাড়ে ৬০০ টাকায়। চিকন ধান সাড়ে ৭০০ টাকার ওপরে। ধান ব্যবসায়ী শাওন মিয়া জানান, এক মাসের ব্যবধানে ধানের দাম মণপ্রতি বেড়েছে ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা। বড় বড় গৃহস্থ ও ধান গুদামজাত করা ব্যবসায়ীরা আরো দাম বাড়ার আশায় এখনই তা বাজারে ছাড়ছেন না। এ কারণে বাজারে ধান সরবরাহ কমে গেছে। এছাড়া বন্যাদুর্গত এলাকায় চালের চাহিদা অনেক বেড়েছে। এর ফলেই বেড়েছে দাম।

ভ্যানচালক হাবিবুর রহমান বলেন, যে চাল ২৭-২৮ টাকা কেজি কিনেছি সে চাল এখন ৩৬-৩৮ টাকা কিনতে হচ্ছে। এটা আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য কষ্টকর।

"