চার যুগেও শেষ হয়নি একটি সেতুর অপেক্ষা

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

আশরাফুল আলম, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)
ADVERTISEMENT

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ও সনমান্দী দুটি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থান হরিহরদি ও মুছারচর। স্বাধীনতার পর প্রায় চার যুগ পেরোলেও একটি সেতুর অপেক্ষা শেষ হয়নি এই এলাকার ৩৫ গ্রামের মানুষের। অথচ সেখানে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর আজও সেতু নির্মিত হয়নি। বাঁশের সাঁকোই তাদের একমাত্র ভরসা। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে এই সেতুর আশায় থাকা মানুষের আবেগ আর কষ্টের কথা। এসব এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দফায় দফায় প্রতিশ্রুতি দেনÑ নির্বাচিত হলেই সেতুটি করে দেব। অথচ নির্বাচিত হওয়ার পর কেউ কথা রাখেননি। বিগত বিএনপি ও চারদলীয় জোট সরকার আমলে সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম হরিহরদি সেতুটি করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখেননি। এরপর ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার। তিনিও কথা রাখেননি। সেতু দূরে থাক, এ বিষয়ে প্রকল্প প্রস্তাবই পাস হয়নি। তবে বর্তমান সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা সেতু নির্মাণের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে বারবার ‘প্রতারিত’ হতে হতে এখন আর কোনো প্রতিশ্রুতিতে আস্থা নেই এলাকাবাসীর মনে।

জানা যায়, প্রায় ৩৫টি গ্রামের মানুষের জন্য এখনো বাঁশের সাঁকোটি একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই বাঁশের সাঁকোটি দিয়ে পারাপার হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সদর ও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় রোগী ও প্রসূতিদের। তাদের নদী পার হতে হয় নৌকায় করে। সম্প্রতি হরিহরদি এলাকার বাঁশের সাঁকোতে পার হতে গিয়ে পানিতে পড়ে আহত হয়েছেন কয়েকজন। এলাকাবাসীর চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির কথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানোর পর সেতুটি নির্মাণের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

মুছারচর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল গনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিরা ভোটের আগে আমাগো শুধুই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভোটে পাস করে মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি হয়; কিন্তু সেতু আর হয় না। এইটা আসলে ভোট পার হওয়ার সেতু। আমরা ৩৫ গ্রামের মানুষ টাকার জন্য ভোট দেই না, সেতুর জন্য ভোট দেই। আমাগো আশ্বাস দিয়া ছয় মাস আগে লাল নিশানা টানানো হইছে, কিন্তু কাজের কোনো খবর নাই। আমরা কারো কথায় এখন আর বিশ্বাস করি না। যেদিন দেখবো আমাদের হরিহরদি সাঁকোর পাশে পাথর-বালু আর রড আসছে, সেই দিনই বিশ্বাস করব সেতু হবে।’

এ ব্যাপারে সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত বলেন, ‘২০০৮ সালে সাংসদ হওয়ার পর সেতুটি নির্মাণের জন্য আমি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি চাহিদাপত্র দিয়েছিলাম। কথাও বলেছি, কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় সেতুটি হয়নি। তবে এই এলাকায় একটি সেতু মানুষের গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। সেতুটি এলাকাবাসীর জন্য খুবই জরুরি।’

সাবেক সাংসদ রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি হরিহরদি এলাকায় সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় সেতুটি করতে পারিনি। তবে হরিহরদি এলাকায় একটি সেতু খুবই প্রয়োজন।’

নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, ‘সেতুটি নির্মাণের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি ডিও (চাহিদাপত্র) দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে আশা করি সেতুটি নির্মাণে হরিহরদি এলাকাবাসীর অনেক দিনের স্বপ্ন পূরণ হবে।’

"