আইন ভেঙে কৃষিজমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ইটভাটায় আইন অমান্য করে কৃষি জমির মাটি ব্যবহারের ঘটনা ঘটছে। আইন জেনেও ভাটা মালিকরা একই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এতে করে আইন লঙ্ঘনে পাশাপাশি, দেশের খাদ্য শস্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎস সংকুচিত হচ্ছে। তবে প্রশাসনিক পর্যায়ে কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

জাতীয় ভূমি নীতিমালা আইন মোতাবেক কৃষি জমিতে ইট ভাটা স্থাপন এবং মাটি কোন অবস্থাতেই কৃষি জমি থেকে সংগ্রহ করা যাবে না। অথচ উপজেলার ২০ টিরও বেশি ইট ভাটায় আবাদি মাঠ থেকে কৃষি জমির মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দু’একটি ইটভাটায় ইট পোড়ানো শুরু হয়েছে। সেখানে ভাটার মালিকেরা বিভিন্ন এলাকার আবাদি মাঠ থেকে জমির মালিকদেরকে চড়া দামে কৃষি জমির উর্বর মাটি কিনে নিয়ে ভাটায় জমিয়ে তা দিয়ে ইট তৈরি শুরু করেছে। মাঠে তৈরি হচ্ছে পাঁচ থেকে সাত ফুট গর্ত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার শ্রীকোলা আবাদি মাঠ এলাকায় বেকো মেশিনে কৃষি জমির মাটি কেটে সেখানকার একটি ইট ভাটায় নেয়া হচ্ছে।

এখান থেকে কয়েকটি ট্রাকে করে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি মাটি কেটে ভাটায় নেয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রত্যন্ত ঘিয়ালা মাঠ থেকেও মাটি কেটে ইট ভাটায় নেয়া হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবাদি মাঠগুলোর জমির মালিকেরা কোন ভাল-মন্দ না বুঝে টাকার বিনিময়ে ভাটা মালিকদের কাছে মাটি বিক্রি করছে।

ঘিয়ালা মাঠে জমি মালিকদের একধিকজনের বক্তব্য, তারা আইন অমান্যের বিষয়টি জানেন। কিন্তু টাকার জন্য করছেন।

বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে আপালকালে জানায়, কৃষি জমির উপরি ভাগের মাটি বিক্রিতে কমপক্ষে তিন চার বছর ওই সব জমিতে সহজে কোন ফসলের ভাল ফলন পাওয়া যায় না।

উল্লাপাড়া ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি জাকির হোসেন নান্নু জানান, কৃষি জমি থেকে সরকারি আইন অমান্য করেই মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে তা এক বাক্যে স্বীকার করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খিজির হোসেন প্রামাণিক জানান, উল্লাপাড়ার অনেক ইট ভাটাতেই কৃষি জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি বিভাগের অনুমোদন নেয়া নেই। এছাড়া ইট ভাটা স্থাপন ও কৃষি জমির মাটি কেটে নেয়ায় কি পরিমান জমির ক্ষতি হয়েছে ও হচ্ছে তার কোন সঠিক হিসাব তার বিভাগে নেই।

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সন্দ্বীপ কুমার সরকার জানান, অনুমোদন বিহীন ইট ভাটা এবং কৃষি জমির মাটি ব্যবহার হচ্ছে এমন ভাটাগুলোকে অবিলম্বে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা, এমনকি বন্ধ করে দেয়া হবে।

"