জামালপুরে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ৯ শতাধিক জনপ্রতিনিধির গণস্বাক্ষর

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

জামালপুর প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

জামালপুরে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনের জোরালো দাবি উঠেছে। জেলার ৭ উপজেলা, ৬ পৌরসভা ও ৬৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত এক আবেদনপত্রে ৯ শতাধিক জনপ্রতিনিধি গণস্বাক্ষর দিয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভা গত ১৭ নভেম্বর সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত হয়। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সংসদ সদস্য রেজাউল করিম হীরা, সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খানসহ কার্যনির্বাহী কমিটির প্রায় সকল সদস্য, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করে মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়। কিন্তু জেলার মতামতকে উপেক্ষা করে মনোনয়ন দেওয়া হয় জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এইচ আর জাহিদ আনোয়ারকে। তার বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে কেন্দ্রে লবিংয়ের মাধ্যমে মনোনয়ন বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর পর থেকেই গোটা জেলায় প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে এবং ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরীর সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে গত মঙ্গলবার শহরের দেউরপাড় চন্দ্রায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার ৭ উপজেলা পরিষদের উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, ৬ পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ৬৮টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বররা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবর লিখিত এক আবেদনপত্রে ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরীর সমর্থনে ৯ শতাধিক জনপ্রতিনিধি গণস্বাক্ষর দেন। সভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সাবেক সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম খোকা বলেন, ‘এমন এক ব্যক্তিকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধে তার পিতার ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছি।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা চান প্রার্থিতা পরিবর্তন। তারা আশাহত হয়েছেন। দলের প্রধানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে আমরা পরিস্থিতি অবহিত করব।’

এদিকে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এইচ আর জাহিদ আনোয়ার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। দলের নেতাকর্মীরা তাকে বয়কট করায় তিনি ভীষণ বেকায়দায় পড়েছেন। অপর দিকে দলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরীসহ মোট ৬ জন প্রার্থী গতকাল বৃহস্পতিবার জমাদানের শেষ তারিখ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

"