কেজি ৩৩ টাকায় চাল কিনবে সরকার

খোলাবাজারে দাম বাড়ার শঙ্কা

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নওগাঁ প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

আমন মওসুমের সিদ্ধ চাল সংগ্রহে সরকারিভাবে বেঁধে দেওয়া দর সময় উপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন নওগাঁর মিলাররা। তবে গত মওসুমের চেয়ে প্রতি কেজিতে ১ টাকা বাড়ানোর ফলে বাজারে চালের দর কিছুটা বাড়তে পারে বলে অনেকে আশংকা করছেন।

গত রোববার দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে মিল মালিকরা সন্তষ্টি প্রকাশ করেন। তবে গতকাল বুধবার পর্যন্ত খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে জেলা পর্যায়ে কোনো আদেশ পৌঁছেনি।

নওগাঁর ফরিদ চাল কলের স্বত্বাধিকারী শেখ ফরিদ জানান, গেল বোরো মওসুমে সরকারিভাবে বেঁধে দেওয়া দর ও নির্ধারিত সময় নিয়ে অসন্তোষে ছিলেন মিলাররা। বাজার দরের চেয়ে সরকারি দর তুলনামূলক বেশি থাকায় সে সময় অতিরিক্ত বরাদ্দ ও তিন দফায় সময় বেঁধে দিয়েও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। বোরো মওসুমে প্রথম ধাপে নওগাঁ থেকে ২০ হাজার ৯৩২ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের জন্য স্থানীয় প্রায় ১২শ’ মিলারের সাথে চুক্তি করে খাদ্য বিভাগ।

ফলে অনেক মিলার লোকসান দিয়েই চুক্তিকৃত চাল সরবরাহ করেছেন। তবে পরবর্তীতে বেঁধে দেওয়া অতিরিক্ত বরাদ্দের চাল সরবরাহে মিলাররা নতুন করে আর চুক্তি করেননি। এদিকে চলতি আমন মওসুমের চাল সংগ্রহে খাদ্য বিভাগ গত মওসুমের চেয়ে প্রতি কেজিতে ১ টাকা বৃদ্ধি করায় খোলাবাজারে এর প্রভাব পড়বে বলে ব্যবসায়ীরা শংকা প্রকাশ করেছেন।

নওগাঁর মহাদেবপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী লুৎফর বলেন, সরকারিভাবে বেঁধে দেওয়া দরের ওপরই অনেকটা নির্ভর করে চালের বাজার দর। সরকারিভাবে বৃদ্ধি করায় অবশ্যই এর প্রভাব খোলাবাজারে পড়বে। প্রতি কেজিতে ১ টাকা বৃদ্ধি করায় খোলা বাজারে মোটা চালে অন্তত প্রতি কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে চলতি আমন মওসুমের চাল সংগ্রহে ৩৩ টাকা কেজি হিসেবে দর বেধে দেওয়ায় খুশি মিলাররা। এ বিষয়ে নওগাঁ চাল কল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার জানান, চলতি আমন মওসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে ৩৩ টাকা দরে চাল দিতে মিলারদের অসুবিধা হবে না। কৃষকরাও ধান বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন।

গেল মওসুমের চেয়ে এবার সরকারি দরে আরো ১ টাকা যোগ হওয়ায় খোলাবাজারে এর প্রভাব পড়বে কি না এমন প্রশ্নে ফরহাদ হোসেন বলেন, চলতি মওসুমে ফলন বেশি হওয়ার কারণে এবার চালের বাজার দরে অস্থিরতার সুযোগ নেই।

তাছাড়া সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বাজারদরে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। সরকারি গুদামে মজুদ বেশি থাকলে বাজারে চালের দর সহনশীল থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নওগাঁ জেলা অতিরিক্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক মহাজের হাসান জানান, চলতি আমন মওসুমের চাল সংগ্রহের বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশ পেলেই জেলায় চাল কেনার কার্যক্রম শুরু করা হবে। এবার বাজারদরের সাথে মিল রেখে চালের দর বেঁধে দেওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কোনো সমস্য হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

"