আমনের বাম্পার ফলনে কৃষকের হাসি

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

যশোরাঞ্চল ও মুকসুদপুরে ধান কাটার ধুম
ADVERTISEMENT

এইচ আর তুহিন, যশোর ও দুলাল বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ

যশোরাঞ্চলে ৬ জেলায় আমন ধান কাটার ধুম পড়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে কৃষকরা ধান কাটছেন। শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় কৃষকরা পালা (জোটবদ্ধা) ধান কাটছেন। ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় কৃষকরা খুশি। ইতিমধ্যে ৫০ ভাগ ক্ষেতের ধান কাটা শেষ হয়েছে। বাকি ধান আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কাটা শেষ হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর যশোরাঞ্চলে ৬ জেলায় রোপা আমনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার ৭৫৩ হেক্টর। আবাদ করা হয় ৪ লাখ ৮ হাজার ৪১৫ হেক্টর। এর থেকে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৫৫ মেট্রিক টন। ইতিমধ্যে ক্ষেতের ধান ৫০ শতাংশ কাটা হয়ে গেছে। ধান রোপণের সময় অতিবর্ষণে ক্ষেতের ১৯ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

চলতি বছর রোপা আমনের বেশি আবাদ হয়েছে যশোর জেলায় এক লাখ ৬ হাজার ৭৩৫ হেক্টর, আর কম আবাদ হয়েছে মেহেরপুর জেলায় ২৪ হাজার ৩৮০ হেক্টর। এছাড়া ঝিনাইদহ জেলায় আবাদ হয়েছে ৯৯ হাজার ১৫০ হেক্টর, মাগুরায় ৫৮ হাজার ২৬৫ হেক্টর, কুষ্টিয়ায় ৮৪ হাজার ৪১৫ হেক্টর এবং চুয়াডাঙ্গায় ৩৬ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ করা হয়।

যশোরের শার্শা উপজেলার শালকোণা গ্রামের বাবুল আক্তার জানান, এবার তিনি ২০ বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেছিলেন। রোপণের শুরুতে অতিবর্ষণে তাদের ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়েছিল। ইতিমধ্যে কিছু ধান কাটা হয়েছে। ফলন ভালো হয়েছে। বর্তমানের বাজারে ধানের মণ ৮০০ থেকে ৮৩০ টাকা। এক হাজার টাকা মণ হলে কৃষক বেশি লাভবান হতো। একই গ্রামের সাহেব আলী ১০ বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেন। বর্ষণে ক্ষতি হলেও যেটুকু ধান হয়েছে তা বেশ ভালো। তিনি বলেন, হাইব্রিড ধানে হেক্টর প্রতি ফলন হয়েছে ৩ দশমিক ৭৫ টন, উফসি ৩ দশমিক ৫ টন ও স্থানীয় জাতের ধান থেকে ফলন পাওয়া যাচ্ছে এক দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন।

যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক চ-ী কুমার দাস জানান, রোপা আমনের আবাদের সময় এ অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এতে কৃষকদের অনেক ক্ষতিসাধন হয়। তার পরও এবার ধানের ভালো ফলন হয়েছে। আশা করছি ধানের ভালো দাম পেলে কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে যাবে।

গোপালগঞ্জ : গত বছর অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির প্রভাবে অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ায় এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দিশেহারা ছিল গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কৃষকরা। এবার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে এবং ঘুরে দাঁড়াতে তারা আবাদ করেছিলেন আগাম জাতের উচ্চফলনশীল (উফশী) আমন ধান। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষকের ভাগ্য খুলে দেয় আগাম জাতের রোপা ও বোনা আমন ধান।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে রোপা ও বোনা উভয় পদ্ধতিতেই কৃষকরা আমনের চাষ করেছিলেন। তারা এ বছর বোনা আমনের চেয়ে রোপা আমন চাষে বেশি আগ্রহী ছিলেন। বর্ষা মৌসুমে জমিতে সেচ না লাগায় এবং সার, বীজ, কীটনাশক ও নিড়ানি খরচ কম হওয়ায় এতে কৃষকের আগ্রহ বেড়ে যায়। ফসল অল্প সময়ের মধ্যে ঘরে তুলতে পারায় কৃষকরা রোপা আমন চাষে বেশি ঝুঁকে পড়েন। আগাম জাতের বোনা ও রোপা আমন ধান কেটে ঘরে তুলতে পারায় কৃষকের মুখে হাসির ঝলক ফুটে উঠেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে কৃষকরা ধান কাটা প্রায় শেষ করেছেন।

আগাম জাতের আমন ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। পাকা ধানের সোনালি রঙে ভরে উঠেছিল মাঠের পর মাঠ।

মুকসুদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৭০০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে দ্বিগুণ অর্থাৎ ৩ হাজার ৪০০ হেক্টরে। এর মধ্যে উফশী জাতের আবাদ হয়েছে ৯০০ হেক্টর। এবং স্থানীয় জাতের আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে।

মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মোশারফ হোসেন জানান, আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় এ বছর কৃষি বিভাগ কৃষকদের উৎপাদিত ধান থেকেই ভালো ও উন্নত মানের বীজধান সংরক্ষণ করার জন্য নানা ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে উৎসাহিত করছে।

"