সড়কে প্রাণ গেল আটজনের

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক
ADVERTISEMENT

দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় আটজন নিহত হয়েছে। আর এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছে। গতকাল বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ জেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদÑ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে বাসচাপায় অটোরিকশার চারজন আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বুধন্তি ইউনিয়নের শশই এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে বিজয়নগর থানার ওসি মো. আলী আরশাদ জানান। হতাহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।

ওসি আরশাদ জানান, সিলেট থেকে ঢাকাগামী এনা পরিবহনের একটি বাস বিপরীতমুখী অটোরিকশাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই এর চালক ও দুই আরোহী নিহত হন। স্থানীয়রা গুরুতর আহত এক নারীকে উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ট্রলি উল্টে এক পরিবহন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো তিনজন আহত হয়েছে। নিহত আলম হোসেন (২৭) একই উপজেলার খানজেপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। কালীগঞ্জ থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, গতকাল বুধবার সকাল ৭টার দিকে খানজেপুর গ্রাম থেকে ট্রাক্টরচালিত ট্রলিতে করে মাটি কাটা শ্রমিকরা কোলাবাজারে কাজে যাচ্ছিলেন। বাবুবাড়ি পৌঁছালে ট্রলিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে পড়ে। এতে চালকসহ চারজন আহত হয়। তাদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ট্রলিটি জব্দ করার পাশাপাশি ঘটনা তদন্ত করছে বলে তিনি জানান।

গোপালগঞ্জ : জেলার সদর উপজেলায় প্রাইভেট কারের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের হরিদাসপুর নিমতলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. সেলিম রেজা জানান।

নিহত আনিচুর রহমান সুজন (৩৫) জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক কোষাধ্যক্ষ। তিনি সদর উপজেলার হরিদাসপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের ইউনুস আলী শেখের ছেলে।

গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক চৌধুরী ফরিদুল ইসলাম জানান, সুজনকে সকালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওসি সেলিম জানান, সকালে সুজন মোটরসাইকেলে করে গোপালগঞ্জ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বিপরীতমুখী একটি প্রাইভেট কারের চাপায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিকের পিতাসহ দুজন নিহত হয়েছেন। আর এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

নিহতরা হলেনÑহাতেম আলী (৯৪) টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার চাতুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি জয়নাল আবেদিনের বাবা। অন্যজন হচ্ছে উল্লাপাড়া পৌর এলাকার শ্যামলী পাড়ার রজব আলীর ছেলে ইমতিয়াজ হোসেন রুবেল (১৮)।

পুলিশ জানায়, গতকাল বুধবার ভোররাতে রংপুর থেকে ঢাকাগামী (চাঁদমিয়া পরিবহন নং-ঢাকা মেট্রো-১৮-৮৭৭৯) একটি বাস সিরাজগঞ্জের মহাসড়কের ষোলমাইল নামক স্থানে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য আরেকটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে হাতেম আলী নিহত এবং আরো ১০ জন আহত হয়। আহতদের স্থানীয়রা রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করে। হাসপাতালে হাতেম আলী খানের মৃত্যু হয়।

অন্য এক ঘটনায় উল্লাপাড়া থানার ওসি দেওয়ান কৌশিক আহমেদ জানান, মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফেরা পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে ইমতিয়াজ হাসান রুবেল গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। সে উল্লাপাড়া বিজ্ঞান স্কুল ও কলেজের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিল।

"