উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষিত

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ফের অবৈধ স্থাপনা তোলার হিড়িক

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

ফরাজী মো. ইমরান, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
ADVERTISEMENT

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে দখল-সন্ত্রাস দিনদিন বেড়েই চলছে। ফ্রি-স্টাইলে প্রশাসনের চোখের সামনেই তোলা হচ্ছে স্থাপনা। কুয়াকাটা পৌর প্রশাসন ও সীবিচ (সৈকত) ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে পর্যটক-দর্শনার্থীর হাঁটাচলার পথ দখল করে তোলা হয়েছে শত শত স্থাপনা। স্থাপনা তোলায় আবার চলছে কোটি টাকার বাণিজ্য। এসব অপসারণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। উল্টো সৈকতে স্থাপনা তোলা আর অপসারণ নিয়ে চলছে লুকোচুরি।

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সৈকত এলাকায় কোনো স্থাপনা তোলা যাবে না। কিন্তু তা উপেক্ষা করে সর্বশেষ গত ৩০ অক্টোবর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকায় নতুন করে আরও ১৮টি স্থাপনা তোলা হয়। কুয়াকাটা সৈকতের মনোমুগ্ধকর ফার্মস এন্ড ফার্মস খ্যাত নারিকেল বাগান এলাকায় এসব স্থাপনা তোলা হয়েছে। সৈকতের পিকনিক স্পট দেখার দায়িত্বে থাকা আবদুল কুদ্দুস নামের এক ব্যক্তি এসব স্থাপনা গড়ে তোলেন। স্থাপনা প্রতি ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নানা নাটকীয়তা এবং কালক্ষেপণের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম সাদিকুর রহমানের উদ্যোগে গত ১৫ নভেম্বর এ স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু কয়েকদিন না যেতেই ফের এসব স্থাপনা আবার ওই জায়গায় বসানো হয়েছে। জনশ্রুতি রয়েছে, এসব ঘর তোলার জন্য ‘উপঢৌকন’ হিসেবে সরকারি দলের স্থানীয় চার নেতাকে চারটি স্থাপনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করলেও সেই নেতাদের নাম বলেননি কুদ্দুস। তিনি আরো জানান, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন তহশিলদারের মৌখিক নির্দেশে তিনি এসব স্থাপনা তুলছেন।

কুয়াকাটা সৈকতে যাওয়ার সড়কের পশ্চিম দিকে স্থাপনায় সয়লাব হয়ে গেছে। দেখে মনে হয়, যেন স্থাপনা তোলা এবং এর থেকে টাকা আদায় করার প্রতিযোগিতা চলছে।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক এ কে এম শামীমুল হক সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, এসব স্থাপনার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ২ জুন পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকা থেকে সব ধরনের স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। কুয়াকাটা সৈকতকে রক্ষা করতে ওই সময় দুটি রুলও জারি করা হয়। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের একটি রিট (পিটিশন নং-৫১৬২/২০১১) আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও গোবিন্দ ঠাকুরের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর প্রেক্ষিতে ওই সময় দু’শতাধিক স্থাপনা ভেঙে দেয় পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসন। কিন্তু এ আদেশ পালন এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় বেড়িবাঁধের বাইরে স্থাপনা তোলা কিংবা বস্তি নির্মাণ করে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস বন্ধ হয়নি।

আরও উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন জেলা প্রশাসক গোলাম মো: হাসিবুল আলম উচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের নিমিত্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। তারা সৈকত এলাকা জরিপ করে খসড়া ট্রেসম্যাপ করে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকার সীমানা নির্ধারণ করেন।

পশ্চিম দিকে আন্ধারমানিক নদীর মোহনা এবং বঙ্গোপসাগরের সংযোগস্থল থেকে কাউয়ারচর মৌজার উত্তর-পূর্ব সীমানার রামনাবাদ চ্যানেল পর্যন্ত সৈকত এলাকা নির্ধারণ করা হয়। সমুদ্র সৈকতের এ সীমানার মধ্যে কোনো ধরনের স্থাপনা তোলা নিষিদ্ধ করা হয়।

"