হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন স্বামীর নির্যাতনের শিকার বিলকিছ

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় স্বামীর বর্বর নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ বিলকিছ বেগম (৩৬) এখন হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন। গুরুতর অসুস্থ ওই গৃহবধূ গত ৬ দিন ধরে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। ৩ সন্তানের জননী বিলকিছ বেগম স্বামীর নির্মম নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

গত ২৪ নভেম্বর আখাউড়া উপজেলার পাশের উপজেলা বিজয়নগরের সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের আটখলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, আখাউড়া উপজেলার বনগজ গ্রামের জামির সরকারের মেয়ে বিলকিছ বেগমের সঙ্গে ৯ বছর আগে বিজয়নগর উপজেলার আটখলা গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে হিরন মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় শ্বশুরবাড়ি থেকে হিরনকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ২ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র দেয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে শ্বশুর জামির সরকার জামাতা হিরন মিয়াকে বিদেশ পাঠান। কিন্তু কয়েক মাস সে দেশে ফিরে আসে। বছর খানেক পর আবারও বিদেশ যাওয়ার জন্য হিরন মিয়া স্ত্রীকে ২ লাখ টাকা এনে দিতে চাপ দেন।

এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই বাক-বিতন্ডা হতো। বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে রাজি না হওয়ায় প্রায়ই বিলকিছকে মারধর করতেন হিরন মিয়া। গত ২৪ নভেম্বর সকালে যৌতুকের টাকা নিয়ে আবারও তাদের মধ্যে কথাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হিরন মিয়া স্ত্রীকে বেদম মারধর করেন। খবর পেয়ে বিলকিছের পিতা তাকে উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় মহিলা ওয়ার্ডের ৭নং বিছানায় বাকরুদ্ধ হয়ে শুয়ে আছেন বিলকিছ। তার হাত-পা ও মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন। শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি উঠে বসতেও পারছেন না।

বিলকিছ বেগমের বাবা জামির সরকার বলেন, ‘মেয়ের সুখের জন্য জামাইকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সেখান থেকে সে খালি হাতে ফিরে আসে। দেশে এসে আবার টাকার জন্য নির্যাতন শুরু করে। সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে আমার মেয়ে স্বামীর সব অত্যাচার নীরবে সহ্য করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পাষন্ড হিরন মিয়া আমার মেয়ের হাত-পায়ে গরম লোহার ছেঁকা দিয়ে ঝলসে দিয়েছে।’ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য, পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহ আলম বলেন, ‘বিলকিছের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে। তার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার শরীর খুবই দুর্বল। পুরোপুরি সুস্থ হতে কিছু সময় লাগবে।’

এ ব্যাপারে বিজয়নগর থানার ওসি মো. আলী আরশাদ জানান, গত মঙ্গলবার বিলকিছের বাবা বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পলাতক আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে।

"