তিনবার উদ্বোধনের পরও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:০০

মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, সিলেট
ADVERTISEMENT

ভবনের ফটকে ঝুলছে তালা। দেয়াল ও ছাদে দেখা দিয়েছে ফাটল। বৃষ্টির দিন ছাদ থেকে পানি চুইয়ে চলে আসে নিচতলায়। ভবনটির সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো থাকে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অ্যাম্বুলেন্স। এ অবস্থা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র-আইসিইউ ও ক্যাজুয়ালিটি ইউনিট ভবনের। একবার-দুবার নয়, তিন-তিনবার উদ্বোধন হয়েছে এ ভবনটি। প্রবেশমুখের ফটকে সাঁটানো ব্যানারে লেখা রয়েছে সর্বশেষ তৃতীয় দফা উদ্বোধনের দিনক্ষণ। কিন্তু ভবনের প্রবেশপথের কলাপসিবল গেট রয়েছে তালাবদ্ধ। খোলা হয় না তাই সামনের খালি জায়গায় অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং করা হয় বলে জানিয়েছেন চালকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ১১ বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ও ক্যাজুয়ালিটি ইউনিট ভবনের। গেল ১১ বছরে ভবনটি উদ্বোধন করা হয়েছে তিনবার। যদিও এখন পর্যন্ত চালু হয়নি এ ভবনের কার্যক্রম। প্রায় ১১ বছর ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে সেখানকার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র। ২০০৫ সালের ১৯ মার্চ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘আইসিইউ ও ক্যাজুয়ালিটি ইউনিট’ ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ হয় তিনতলা এ ভবনটি। ভবনের ভেতরে আইসিইউ ও ক্যাজুয়ালিটির যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনে ব্যয় হয় আরো ১ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন এসব অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি পড়ে থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের কারণে এত দিন চালু করা যায়নি। এখন জনবল পাওয়া গেছে তাই এ মাসেই (ডিসেম্বর) শুরু হবে এই বিভাগের কার্যক্রম। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পেছনে ত্রিকোণাকৃতির ভবনটি নির্মাণকাজ শেষে ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান উদ্বোধন করেন। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে ২০০৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এটি দ্বিতীয় দফায় উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এরপর ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম হাসপাতাল পরিদর্শনকালে এ আইসিইউ ও ক্যাজুয়ালিটি ইউনিট ভবন উদ্বোধন করেন।

অভিযোগ রয়েছে, বেসরকারি মেডিকেল কলেজকে সুযোগ করে দিতেই সরকারি এ হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগ চালু করা হচ্ছে না। তবে হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, দ্বিতীয় দফা উদ্বোধনের পর প্রতিস্থাপন করা যন্ত্রপাতি পরিচালনায় সমস্যা দেখা দেওয়ায় চালু করা যায়নি এ ইউনিট। প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় মূল হাসপাতালের নিচতলার একটি ওয়ার্ডে ছোট পরিসরে আইসিইউ ও ক্যাজুয়ালিটি ইউনিট পরিচালিত হচ্ছিল। লোকবল বরাদ্দ ত্বরান্বিত করতেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দিয়ে মূল আইসিইউ ভবনটি তৃতীয় দফা উদ্বোধন করানো হয়। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীও এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করেন। তবে এখন পর্যন্ত লোকবল নিয়োগ না দেওয়ায় বন্ধ রয়েছে এ ইউনিটের কার্যক্রম। এদিকে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার ১১ বছর পর আইসিইউ ও ক্যাজুয়ালিটি ইউনিট চালু না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ হাসপাতালে আসা রোগীদের। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে। দীর্ঘদিন ধরে এ ইউনিটের যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় এর অনেকগুলোই বিকল হয়ে গেছে।

জানা যায়, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল ভবনে ছোট পরিসরের আইসিইউ ইউনিটে শয্যা রয়েছে মাত্র চারটি। এ হাসপাতালের বহির্বিভাগ মিলিয়ে প্রতিদিন চিকিৎসা নেন প্রায় ১০ হাজার রোগী। প্রতিদিন আইসিইউতে ভর্তি করার মতো মুমূর্ষু অবস্থার রোগী থাকেন শতাধিক। হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হতে না পেরে এসব রোগীকে নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুস ছবুর মিঞা জানান, জনবল সংকটের কারণে দীর্ঘদিন এ ইউনিটটি চালু করা যায়নি। তবে ডিসেম্বর মাসে ইউনিটটি চালু হবে। এজন্য ডাক্তার ও তিনশ’ নার্স সিলেটে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, আইসিইউ ও ক্যাজুয়ালিটি ইউনিট চালু হলেই রোগীরা সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

"