রূপগঞ্জে ৭০ স্কুলে খেলার মাঠ নেই

ছাত্রছাত্রীরা খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদন থেকে বঞ্চিত

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কামশাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র রাহীদ। দিন-রাত বই-পুস্তকে মগ্ন থাকতে হয়। খেলার সময় বলতে বিকেলে কিছুটা সময় মেলে। কিন্তু এ সময়টাতেও সে খেলতে পারে না। স্কুলে খেলার মাঠ না থাকায় তাকে বাড়িতে বসেই অলস সময় কাটাতে হয়। বইয়ের ধকল সইতে সইতে এখন তার হাসফাস অবস্থা। অনেক সময়ই সে বিষন্নতায় ভুগে। শুধু রাহীদ নয়। রূপগঞ্জের ৭০ টি স্কুলে খেলার মাঠ না থাকায় ছাত্রছাত্রীরা খেলাধূলা ও চিত্তবিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যালয়গুলোতে ভবন থাকলেও টিফিন বিরতি কিংবা অন্য সময়েও ক্লাসে বসেই ছাত্রছাত্রীদের সময় কাটাতে হয়।

প্রতিদিনের সংবাদের অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলায় ১১৪টি স্কুলের মধ্যে ৭০টি স্কুলে খেলার মাঠ নেই। অবশিষ্ট ৩৪টিতে মাঠ থাকলেও খেলাধূলায় উৎসাহ দেওয়ার লোক নেই। অনেক স্কুলের খেলার মাঠ প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের কামশাইর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কোনো খেলার মাঠ নেই। দক্ষিণ পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রয়েছে এক চিলতে ছোট পরিসরে জায়গা। ভুলতা ইউনিয়নের ভুলতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তিল ধারণের ঠাই নেই। কিন্তু খেলার মাঠ বলে কিছু নেই। এই অবস্থা রূপগঞ্জের ৭০টি স্কুলে। আবার অনেক স্কুলে নামেমাত্র মাঠ থাকলেও বছরের ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকে। এছাড়া উপজেলার বেশ কিছু স্কুলের খেলার মাঠ আশপাশের প্রভাবশালীরা দখলে নিয়েছে। নগরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাজী নুর মোহাম্মদ নামে এক ব্যবসায়ী দখলে নিয়ে বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন। আশপাশের বাড়ির মালিকরাও কৌশলে মাঠ দখলে নিচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, খেলার মাঠের ওপর দিয়ে রাস্তা যাওয়ার ফলে সংকুচিত হয়ে আসছে খেলার মাঠ।

সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও এলাকার লোকজন জানান, মাঠের অভাবে বিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা সম্ভব হয় না। এতে করে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল কর্মকা- থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কথা হয় ভুলতা স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে। তিনি বলেন, মাঠির অভাবে স্কুলগুলোর ছাত্রছাত্রীরা প্রস্তুতি নিতে পারে না। এতে উপজেলা পর্যায়ের কোনো খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয় না। অনেক স্কুলের নিজস্ব ভবন ছাড়া সামান্য জায়গাও নেই। এমনকি জাতীয় সংগীত গাওয়ার জন্য কোনো স্থান নেই।

কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও সমাজসেবক মাসুম আহম্মেদ বলেন, ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা খুবই প্রয়োজন। প্রত্যেক স্কুলে খেলার মাঠ প্রয়োজন।

কামশাইর স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মতিন ভূইয়া ও প্রধান শিক্ষক শাহানা বেগম বলেন, স্কুলে কয়েক’শ ছাত্রছাত্রী। অথচ সামনে খেলার মাঠ নেই। উপজেলা শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, অনেক স্কুলে খেলার মাঠ নেই এটা সত্য। কিন্তু আমাদেও তো কিছু করার নেই। তবে যেসব স্কুলের খেলার মাঠ দখল হয়ে গেছে তা উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"