সাতক্ষীরায় কমছে আখ চাষ

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

অর্থকরী ফসলের একটি আখ চাষ। লাভজনক ফসল হিসেবেও পরিচিত। তবে অনুকুল পরিবেশ না থানায় সাতক্ষীরা জেলা ব্যাপী কমেছে আখ চাষ। অর্থ সংকট বা প্রয়োজনীয় জমি না থাকলেও ঋণ নিয়েও অন্যের জমি বর্গা নিয়ে আখ চাষ করতেন কৃষকরা। কিন্তু কালের বিবর্তনে আখ চাষ আজ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে।

তালা উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে আখ চাষ বেশী হতো। কিন্তু এখন আর আখ চাষ করছে না কৃষক। জলাবদ্ধতা আর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় কমেছে চাষীর সংখ্যা। বর্তমানে হাতে গোনা কিছু কৃষক আখ চাষ করেছেন। বর্তমানে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন আখ পরিষ্কার, রস ও গুড় তারপর পাটালি তৈরীর কাজে।

খলিষখালীর মোকসেদপুর গ্রামের হযরত মোড়ল এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তার আখের জমিতে। জমিতে তাবু বানিয়ে রাত দিন পরিশ্রম করছেন। আখ থেকে রস বের করে জ্বালিয়ে গুড় ও পাটালি তৈরীর কাজে। পরিবারের বাকি সদস্যদের সাথে কয়েকজন শ্রমিকও নিয়েছেন তিনি। আখ কাটা, সেগুলো পরিষ্কার করা তারপর মেশিনে মাড়িয়ে রস বের করে আনা। জ্বালিয়ে গুড়ে পরণত করা।

হযরত মোড়ল জানান, আমার বাবাও এ ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। এ বছর ৩ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে অলসতা করলে লাভের মুখ দেখতে পারবো না। এ বছর পাটালির মণ ৩ হাজার টাকা। প্রতি কেজি ৭৫ টাকায় বিক্রি করবো।

তিনি আরো বলেন, এখন আখ চাষীর সংখ্যা কমেছে। সরকারিভাবে কোন সহায়তা করা হয় না তাছাড়া বছরের অর্ধেক সময়ই জমি জায়গা পানিতে ডুবানো থাকে। উচু জমিরও অভাব হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জেলা খামারবাড়ির প্রশিক্ষণ ও তথ্য কর্মকর্তা জিএমএ আব্দুল গফুর জানান, জেলায় আখ চাষীর সংখ্যা কমেছে। গত বছর ১৩৯ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হলেও এ বছর ৮৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, আখ বার মাসের ফসল বছরে একবার উঠে সেখানে একই জমিতে অন্যান্য আবাদ করে এক বছরে একাধিক ফসল উৎপাদন করছে কৃষক এজন্য আখ চাষের প্রতি কৃষকরা দিন দিন আগ্রহ হারাচ্ছে।

"