রাস্তার নি¤œমানের ঢালাইকাজ বন্ধ করে দিল বিক্ষুব্ধ জনতা

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

নরসিংদী ও রায়পুরা প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

নরসিংদীর রায়পুরা রায়পুরা খাদ্য গুদামঘাট থেকে তুলাতলী পর্যন্ত রাস্তার একটি অংশে রাতের আঁধারে নি¤œমানের ঢালাই কাজ করার অভিযোগে কাজ বন্ধ ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার শ্রীরামপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

রায়পুরা পৌর এলাকাবাসী জানান, উপজেলার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীন রায়পুরা-বারৈচার রাস্তার নির্মাণকাজ করার জন্য তিনটি ভাগে টেন্ডার হয়। এর মধ্যে রায়পুরা খাদ্য গুদাম ঘাট থেকে তুলাতলী পর্যন্ত একটি অংশে মাসুদ ইন্টারন্যাশনাল হাইটেক ইঞ্জিনিয়ার্স নামে কনট্রাকশন ফার্ম টেন্ডার পেয়ে কাজ শুরু করে। ঠিকাদারের লোকজন নি¤œমানের পাথর ও রড দিয়ে রাতের আঁধারে ঢালাই কাজ করায় কাজের গুণগত মান নিয়ে এলাকাবাসীর সন্দেহ দেখা দেয়। পরে এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছে মান নিয়ে অভিযোগ করে। গতকাল মঙ্গলবার রায়পুরা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী মো. মাহবুব আলম শাহীন ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিলন মাস্টার এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন। এখানে তারা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সোলায়মান ও সাইট ইঞ্জিনিয়ার তুষারের কাছে কাজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি এবং গুণগত মান সম্পর্কে জানতে চান। তারা কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে এলাকাবাসী শিডিউল মোতাবেক কাজ করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

এ ব্যাপারে রায়পুরা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মাহবুব আলম শাহীন বলেন, রাতের আঁধারে নি¤œমানের পাথর ও রড দিয়ে ঢালাই কাজ করার অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে ঠিকাদারের লোকজনকে কাজ বন্ধ করার অনুরোধ করি। কর্তৃপক্ষের লোকজন যতক্ষণ কাগজপত্রাদি দেখাতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।

রায়পুরা উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মিলন মাস্টার বলেন, শিডিউল মোতাবেক রাস্তার কাজ করা হচ্ছে না। অনিয়ম করে কাজ করলে এলাকাবাসী কাজ করতে দেবে না। ভালোভাবে কাজ করলে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের লোকজনের কাছে কাজের শিডিউলের কাগজপত্র চাইলে তা দেখাতে বর্থ হয় এবং বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পাশ কাটানোর চেষ্টা করলে পরে তাদের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

এ ব্যাপারে সাইটের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সোলায়মান বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে শিডিউল অনুযায়ী ঢালাই কাজ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লোক পাঠানো হবে। এলাকাবাসী ও ঠিকাদারের মধ্যে এ ঘটনা নিষ্পত্তি না হলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

"