শুধু বাড়ি নয়, দুনিয়া ছাড়লেন হামিদা

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

প্রায় ৩০ বছর আগে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার গৌরাঙ্গী এলাকা ছেড়ে বেড়াডোমায় এসে তিন শতাংশ জমি কেনেন হামিদা বেগম (৪৭)। বছর দশেক আগে স্বামীকে হারালেও সাহস হারাননি। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু তো আছে! কিন্তু তখন বুঝতে পারেননি প্রতারকের দল জাল দলিল করে তাদের বুঝিয়ে দিয়েছে নদীর জমি। গত শনিবার যখন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের তালিকায় নিজের বাড়ির জমিটুকু থাকার কথা জানলেন, এই ধাক্কা আর সামলাতে পারলেন না। স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চিরবিদায় নিলেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমা এলাকায়। প্রশাসনের ‘লৌহজং নদী’ দখলমুক্ত অভিযানের খবরে স্ট্রোক করেন হামিদা বেগম। টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই মারা যান তিনি।

একমাত্র মেয়েকে নিয়ে কোনো রকমে দিনাতিপাত করতেন হামিদা বেগম। আয়ের উৎস বলতে ছিল কেবল পান-সিগারেটের একটি টং দোকান। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন, তবে তিনি একা থাকায় মেয়েকে জামাইসহ নিজের বাড়িতেই রেখেছিলেন।

গতকাল মঙ্গলবার হামিদা বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনের দখলমুক্ত অভিযানের কথা শুনে হামিদাসহ আশপাশের লোকজন নিজেদের ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলছেন। এ সময় হামিদার মেয়ে বিথি আক্তার অশ্রুসজল নয়নে বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর আগে আমার বাবা টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার গৌরাঙ্গী এলাকা ছেড়ে এখানে এসে তিন শতাংশ জমি কিনেন। সংসারে আয়ের তেমন কোন উৎস ছিলনা। বাবাও বয়স হয়ে যাওয়ায় নিয়মিত কাজ করতে পারতেন না। ৮/৯ বছর আগে বাবা মারা গেলে মা টাঙ্গাইল শহরের স্টেডিয়ামের পাশে ভাসানী হলের সামনে একটি টং দোকানে পান-সিগারেট বিক্রি শুরু করেন। সেখান থেকে যা আয় হইতো তাই দিয়াই আমাগো সংসার কুনো রকমে চইল্যা যাইত। পাঁচ বছর আগে আমার বিয়া অইলেও মা স্বামীসহ আমারে তার সাথেই রাখছিল। এহন ঘর-বাড়ি হারানোর শোকে মা তো চইল্যা গেল। আমাগো জীবন কেমনে কাটব?’

"