টাঙ্গাইলে লৌহজং নদী উদ্ধার অভিযান শুরু

ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রতারণার শিকার দরিদ্ররা

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

রেজওয়ান শরিফ, টাঙ্গাইল
ADVERTISEMENT

একসময়ের খরস্রোতা ‘লৌহজং নদী’ বিভিন্ন সময়ে দখল ও দূষণের মধ্যদিয়ে নাব্যতা হারিয়ে সরু খালে পরিণত হয়েছে। টাঙ্গাইলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শহরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে চলা নদীটি উদ্ধারে মহাপরিকল্পনা হাতে নেয় জেলা প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে শহরের বেড়াডোমা এলাকা থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করে তারা। তবে অভিযানে দরিদ্ররা প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল সকাল ৯টায় বেড়াডোমা ইসলামবাগ এলাকায় নদী উদ্ধারে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীর পুরো অংশ দখলমুক্ত না করা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন। এ সময় সেখানে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্টজনেরা।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি সাবেক এমপি কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের এ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে তিনি যদি ক্ষমতাশালীদের সম্পদ রক্ষা করে দরিদ্রদের সম্পদ দখল করেন তাহলে তিনি নন্দিত না হয়ে নিন্দিত হতে পারেন।’ এ সময় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করার দাবিও জানান তিনি।

মনোয়ারা বেগম এমপি বলেন, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী দেশের দখল হয়ে যাওয়া সকল নদী, খাল, বিল উদ্ধার করা হবে। এ জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন বলেন, ‘নদীটি উদ্ধার হলে এর তীর দিয়ে শহর বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হবে। এতে উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তের লোকজন শহরের যানজট এড়িয়ে সহজেই শহর ও বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতে পারবে।’

উদ্ধার অভিযানের প্রধান উদ্যোক্তা জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘নদীটি দখলমুক্ত করতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রচারাভিযান চালাচ্ছি। নদীর সীমানা চিহ্নিত করে দখলকারীদের তাদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে নোটিশ করা হয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা রয়েছে। যত প্রতিবন্ধকতাই আসুক পুরো নদীটি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আমরা পিছপা হব না।’

এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে দখলমুক্ত কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে টাঙ্গাইলের প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনসহ ঢাকা ও বরিশাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এসে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেডক্রিসেন্ট, মানবাধিকার সংগঠন এসে উদ্ধার অভিযানে একাত্মতা প্রকাশ করে। মাইকে বাজানো হয় লৌহজং নদী উদ্ধার বিষয়ক লোক সঙ্গীত।

নদী, খাল, বীল ও জলাশয় রক্ষা আন্দোলন কমিটির মহাসচিব রতন আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে লৌহজং নদীটি উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে। এতে আমরা খুবই আনন্দিত।’

স্থানীয় বাসিন্দা খালিদ হাসান বলেন, ‘নদীটি উদ্ধার হলে শুধু স্থানীয়রা নয়, পুরো জেলাবাসী উপকৃত হবে। নিঃসন্দেহে এই কার্যক্রমটি প্রশংসার দাবি রাখে।’

তবে ক্ষতিগ্রস্থরা তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পেশায় চা বিক্রেতা গণেষ চৌহান বলেন, ‘প্রায় ২৫ বছর আগে এই জমি ক্রয় করে তার পিতা বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। দুই শতাংশের বাড়িটি এখন হারিয়ে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে পথে বসতে চলেছি।’

একই রকম কথা বললেন বিথি আক্তার। পিতা-মাতা এবং সহায় সম্বল হারিয়ে এখন বেঁচে থাকার জন্য তার আর কোন অবলম্বন অবশিষ্ট রইলো না। বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, কিছু অসাধু প্রভাবশালী ব্যক্তি নদী তীরের জায়গা দখল করে ভূয়া দলিল তৈরি করেন। পরে সেই জমি বিক্রি করে তারা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছেন তুলনামূলক কম দামে কিনে প্রতারণা শিকার হওয়া হতদরিদ্ররা।

"