সাবেক জেলারসহ চারজনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা

মেহেরপুর জেলখানায় বন্দী নির্যাতন ও অনিয়ম-দুর্নীতি

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ০০:০০

মেহেরপুর প্রতিনিধি
ADVERTISEMENT

মেহেরপুর জেলা কারাগারে নানা দুর্নীতি ও বন্দি নির্যাতনের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় মেহেরপুর জেলখানার সাবেক জেলার মো. শেখ আকতার হোসেনসহ তিন কারারক্ষীর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। মেহেরপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতের বিচারক সানাউল্লাহ মিয়া গতকাল সোমবার এ আদেশ জারি করেন। গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- মেহেরপুর জেলা কারাগারে কর্মরত কারারক্ষী আলামীন হোসেন, সোলাইমান হোসেন ও মামুন হোসেন।

জেলাজজ কোটের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট পল্লব ভট্টাচার্য জানান, মামলায় আসামিরা প্রাথমিকভাবে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক।

গত ১৩ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে কারাগারে বন্দি মো. শাহীর ছোট ভাই মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মেহেরপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে মামলা করেন। মামলায় জেলার শেখ আখতার হোসেনকে প্রধান আসামী ও প্রধান কারারক্ষী আলামিন হোসেন, কারারক্ষী সোলাইমান হোসেন ও মামুন হোসেনকে আসামী করা হয়।

মামলার আর্জিতে বলা হয়, জেলার আকতার হোসেনসহ মামলার অন্য আসামিরা বন্দিদের মধ্যে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করেন। তারা বন্দিদের ফাইল কাটা বাবদ ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়া, জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত আসামিদের কাগজে ভুল আছে বলে বন্দিদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা, কয়েদি বন্দিদের পাহারা ও ম্যাট বানানোর জন্য এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা নেওয়া, বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অফিস কল বাবদ বন্দিপ্রতি ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়া, বাইরের কারা ক্যান্টিনে বন্দিদের আত্মীয়স্বজনদের আনা মালামালের ব্যাগপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা নেওয়া, বাইরের কারা ক্যান্টিনের মালামাল বিক্রি হোক বা না হোক ক্যান্টিন ম্যানেজারের কাছে থেকে মাসিক ২২ হাজার টাকা আদায়, বন্দিদের সাক্ষাৎপ্রার্থী ব্যক্তিদের কাছ থেকে স্লিপপ্রতি ১০ টাকা করে আদায়, ওকালতনামা স্বাক্ষর করতে ৫০ টাকা নেওয়া, কারাগারের ভেতরের ক্যান্টিন থেকে বন্দিদের খাবার কিনতে বাধ্য করা, অতিরিক্ত মূল্যে খাবার বিক্রি করা, বন্দিদের কম পরিমাণ খাবার দেওয়া এবং বিভিন্ন বন্দির কাছ থেকে সাপ্তাহিক, মাসিক বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন অঙ্কের চাঁদা হিসেবে গ্রহণ করে কারাগারের ভেতরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করছে।

এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে আসামিরা বাদীর ভাই কারাবন্দি মো. শাহীকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন প্রায় সব সময় শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অপারগতা জানালে গত ২৭ সেপ্টেম্বর আসামিরা মো. শাহীকে বেদম প্রহার করেন। ১ নম্বর আসামি জেলার আকতার হোসেনের নির্দেশে অন্য তিন আসামি শাহীর তলপেটে বুট দিয়ে পিষে গুরুতর জখম করেন। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে রক্তবমি করতে থাকেন এবং তার কিডনি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য শাহীকে গোপনে দ্রুত যশোর জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেন তারা।

"